সময়

যখন মোবাইলফোন, ইন্টারনেট নেই

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২০:০৬

বয়স তখন সাত কিংবা আট। বাড়ির পাশে ধুধু করা বড় মাঠ। গ্রীষ্মকালে সরিষা ফুলের মেলা, শীতকালে ফাঁকা মাঠে সবুজ ঘাসের অনন্যরূপ আজো চোখে ভাসে। পাড়ার সমবয়সিদের সঙ্গে জমে উঠত খেলার আসর। কখনো ধানখেতের অবশিষ্ট শেকড় উপড়ে ফেলে ক্রিকেটের চার ছক্কা, কখনোবা হাফ প্যান্ট পরে ফুটবলের ফাউল পেনালটিতে মেতে ওঠা। বিশ টাকার ট্রফির জন্য মাসের পর মাস ব্যাপক উত্সাহ-উদ্দীপনায় চলত টুর্নামেন্ট। তখন টাকার হিসাব বুঝতাম না, ট্রফি পাওয়াই ছিল মুখ্য। আইপিএলের মতো প্লেয়ার নিলামে তোলার সংস্কৃতিও ছিল। একেকজন খেলোয়ার বেচাকেনা হতো পাঁচ টাকা দরে। আম্পায়ার যে হতো তার ভাবসাব থাকত আলাদা। কখনো কখনো ঘুষ খেয়ে এক পাক্ষিক সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটত।

শুধু ক্রিকেট-ফুটবলই নয়, বড় পুকুরের পানিতে শেওলার মাঝে শাপলা কুড়িয়ে হলুদ মুকুল খাওয়ার আনন্দ ছিল। মাটি বোঝাই ট্রাক্টরের পেছনে ঝুলে চড়ার মজাও ছিল অফুরন্ত। গোধূলিবেলায় মাঠের প্রান্তরে ধুলো উড়িয়ে পারমাণবিক বোমা ফাটানোর মতো ফিল্মি মেজাজ স্মৃতিপটে গেঁথে আছে। এখন প্রযুক্তির যুগ। ইন্টারনেট, মোবাইলফোন, কম্পিউটার, আইফোন অনেক কিছু প্রতিদিনের সঙ্গী। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমু, ভাইবারের জোয়ার। একালের শিশুরা খেত-খামার, মাঠে-প্রান্তরে, পুকুর-নদীতে লাফিয়ে-ঝাপিয়ে খেলাধুলা করে না। হাত বাড়ালেই ক্ল্যাশ অফ ক্ল্যান, পাবজি, বাস সিমুলেটর, লুডু স্টার প্রভৃতি মেলে। এসব গেমসে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে তারা। এভাবে নিরানন্দময় জীবনে বেড়ে উঠছে নতুন প্রজন্ম।