অধ্যাপক আনিসুজ্জামান যুগপুরুষ হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। গবেষণা, সাহিত্য, মুক্তবুদ্ধি চর্চা ও বহুমুখী সামাজিক কর্মধারার মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের এক জন দিকনির্দেশক। যে কোনো জাতীয় সংকটে তার ভূমিকা ছিল অনন্য। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রসারণ ও যুক্তিবাদী সমাজ গঠনে তার নিরলস প্রয়াস এ দেশের বাঙালি সমাজকে সব সময় অনুপ্রাণিত করেছে। গতকাল অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মৃত্যুর পর তার জন্মদিন পালন অনুষ্ঠানে বক্তারা এভাবে তার মূল্যায়ন করেন।
জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের ৮৫তম জন্মদিন স্মরণে স্টুডেন্ট ওয়েজ প্রকাশ করেছে প্রাবন্ধিক-গবেষক এম আবদুল আলীম রচিত জীবনীগ্রন্থ ‘আনিসুজ্জামান’। গতকাল শাহবাগের পাঠক সমাবেশে গ্রন্থটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আনিসুজ্জামানের সহধর্মিণী সিদ্দিকা জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক। গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনা করেন কবি-প্রাবন্ধিক পিয়াস মজিদ, কবি ওবায়েদ আকাশ এবং তাশরিক-ই-হাবিব। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বইটির লেখক ড. এম আবদুল আলীম ও স্টুডেন্ট ওয়েজ-এর প্রকাশক মোহাম্মদ লিয়াকতউল্লাহ। প্রকাশনা উত্সবে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি লোকগবেষক শামসুজ্জামান খান। উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আনিসজ্জামানের ছেলে আনন্দ জামান।
সিদ্দিকা জামান বলেন, ‘মৃত্যুর পর এই প্রথম আনিসুজ্জামানকে বাদ দিয়ে তার জন্মদিন পালন করা হচ্ছে। দিনটি একদিকে আনন্দের আবার কষ্টেরও। যা-ই হোক তার মৃত্যুর পর তার কর্ম ও গবেষণা নিয়ে যেভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে, এটা দেখে আমি আনন্দিত। বইটি পড়ে নতুন প্রজন্ম আনিসুজ্জামানকে জানতে পারবে। তিনি যুগ-যুগান্তর ধরে পাঠকের হূদয়ে বেঁচে থাকবেন —এই কামনা করি।’ শামসুজ্জামান খান বলেন, আনিসুজ্জামান স্যারের বহুমাত্রিক জীবন, বহুক্ষেত্রে তার অসাধারণ দক্ষতা অথবা গবেষণা সবকিছুই মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা-চেতনাকে উসকে দেয়। বুদ্ধিবত্তিক চেতনার ক্ষেত্রে তিনি যে উত্কর্ষের পরিচয় দিয়েছেন তা অতুলনীয়। সৈয়দ আজিজুল হক বলেন, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান জাতির জন্য দায়িত্ব পালন করেছেন, সমাজের জন্য দায়িত্ব পালন করেছেন। শুধু বই লেখা ও গবেষণায় নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের প্রতিটি ক্রান্তিকালে জাতিকে পথনির্দেশ দিয়েছেন। একজন বুদ্ধিজীবীর যে দায়িত্ব তা তিনি জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে পালন করে নিজেকে অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিলেন।
পিয়াস মজিদ বলেন, অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের জীবন বিশাল, কর্মব্যাপ্ত। তাকে একটি গ্রন্থে তুলে ধরা খুব কঠিন। আজ যে কাজের শুরু হলো আগামীর গবেষকরা আনিসুজ্জামান স্যারকে নানা মাত্রায় তুলে ধরবেন—এটাই প্রত্যাশা। গ্রন্থের লেখক ড. এম আবদুল আলীম বলেন, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এক মহাজীবনের অধিকারী। তিনি ছিলেন জাতির শিক্ষক। তিনি লেখায়, জীবনের চলায় বলায় সর্বক্ষেত্রে জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
