ফুটবল অঙ্গনে রেফারিং নিয়ে তোলপাড় চলছে। একটা সিদ্ধান্তকে ঘিরে শেষ পর্যন্ত রেফারিজ কমিটি বদল করে নতুন কমিটিও জানিয়ে দিল বাফুফে। এটা নিয়েও খুব গুঞ্জন চলছে। প্রশ্ন উঠছে—খেলা পরিচালনা করল রেফারি আর মুণ্ডপাত করা হলো কমিটিকে। অন্যান্য কমিটি আর রেফারিজ কমিটির কার্যক্রমের মধ্যে একটু ব্যবধান রয়েছে। এখানে রেফারির কার্যক্রমের ওপর সবকিছু নির্ভর করে। রেফারি ভুল বাঁশি বাজালে ভুল সিদ্ধান্ত দিলেও পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয় না। একমাত্র ফুটবল মাঠে কোনো ভুল সিদ্ধান্তের কারণে রেফারি নামের বিচারকের পরিবর্তন হলেও বিচারকের রায় পরিবর্তন হয় না। রেফারি জালাল উদ্দিনের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে ঘিরে রেফারির শাস্তি হয়নি। তার আগেই কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রেফারিজ কমিটির ভেঙে দেওয়ার দুই দিন আগেও বলেছে রেফারিরা ভালো চালাচ্ছে। দুই দিন পরই কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। গতকাল বাফুফে থেকে সভাপতির মাসিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে রেফারিদের উন্নয়ন কার্যক্রম বলতে গিয়ে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন উল্লেখ করেছেন—‘রেফারিজ কমিটির প্রচেষ্টার জন্য আমি খুশি এবং তাদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ দিতে চাই’।
জাকির হোসেন চৌধুরীকে সরিয়ে কর্মকর্তার পরিবর্তন হলো, কমিটি পরিবর্তন করে রেফারিংয়ের উন্নতি হওয়ার কোনো সুযোগ আছে কি না। এই রেফারিরাই খেলা পরিচালনা করবেন। এরা আবার ভুল করবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ভুল করলে তখন কি আবার কমিটি পরিবর্তন হবে? সরিয়ে দেওয়ায় আক্ষেপ করে জাকির হোসেন বললেন, ‘দীর্ঘদিন একভাবে চলে আসছিল। এখন সেটা হচ্ছে না। যিনি আমাকে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেছিলেন তিনিই সরিয়ে দিয়েছেন। হয়ত ভালো মনে করেছেন। আমি ওনার সিদ্ধান্তকে সম্মান করি।’
তিন মাসের দায়িত্ব পালনকালে জাকির হোসেন চৌধুরী রেফারিদের উন্নয়ন করার চেষ্টা করেছেন। রেফারিদের উন্নতি করা, নতুন রেফারি তৈরি করা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ব্যস্ততা ছিল রেফারিদের। রেফারিদের কথা ১৫ বছরে এমন কার্যক্রম লক্ষ্য করেনি তারা। আক্ষেপ নিয়ে জাকির হোসেন বললেন, ‘খরগোশ হয়ে বসে থাকাই ভালো ছিল। আমি ট্রেনের গতিতে চলতে চেষ্টা করেছি। খেলার আগে রেফারিদের হাতজোড় করে অনুরোধ করে বলতাম নিরপেক্ষ বাঁশি বাজাতে হবে। কোনো রেফারিকে আমি অনৈতিক দেখিনি।’ জাকির বললেন, ‘খেলা চলাকালীন ডাগআউট থেকে রেফারিকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এভাবে চললে কোনো ভদ্র রেফারি খেলা চালাতে পারবে না।’
