ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে ২-০ তে হারটা বড়সড় ধাক্কাই দিয়েছে বাংলাদেশকে। হারের কারণ অনুসন্ধান এবং এই নাজুক পারফরম্যান্স থেকে ঘুরে দাঁড়াতে কাজ করছে বাংলাদেশ দল। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন কেন্দ্রীয় ভূমিকায় থেকে ক্রিকেটার, কর্মকর্তা, কোচদের সঙ্গে কথা বলছেন। গত বুধবার বোর্ড পরিচালক, নির্বাচক, তিন সিনিয়র ক্রিকেটারের সঙ্গে মিটিং করেছেন তিনি। নিজ বাসভবনে গতকাল কোচিং স্টাফের সদস্যদের সঙ্গেও মিটিং করেন তিনি।
সব পক্ষের মতামত, মন্তব্য শুনেই এগিয়ে যেতে চান পাপন। এমন পারফরম্যান্সের কারণ খুঁজতে গিয়ে কাউকে নির্দিষ্ট করে দোষ দিতে চান না তিনি। দোষারোপের সংস্কৃতিতে না হেঁটে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন বোর্ড সভাপতি। গতকাল কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ক্রিকেটারদের করোনা ভাইরাসের টিকা দেওয়া শেষে সাংবাদিকদের এমনটাই বলেছেন পাপন। দলের বাজে পারফরম্যান্সে নির্দিষ্ট কাউকে দোষী করতে চান না জানিয়ে গতকাল বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ‘আমি তো কাউকে দোষী সাব্যস্ত করতে আসিনি। আমি চেষ্টা করছি সমস্যার সমাধান করতে।’ উইন্ডিজদের বিরুদ্ধে খেলা দেখে বাংলাদেশ দলকে অচেনা মনে হয়েছে পাপনের কাছে। তিনি বলেছেন, ‘আমরা যে টেস্ট দুইটা দেখেছি ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে, এই খেলা বাংলাদেশ দলের খেলা মনে হয় না। এরাই যখন আবার টি-টোয়েন্টি খেলছে, ওয়ানডে খেলছে পুরোপুরি ভিন্ন। এই টিমের সঙ্গে যখন ওয়ানডে খেলছে তখন তো আমরা ভালো খেলছি। ফলে টেস্ট হলে সমস্যাটা কোথায়? আসলে ওদের সঙ্গে বসার যে কারণ ছিল আমি প্রত্যেকের কাছে শুনতে চাচ্ছি যে, সমস্যাটা কোথায় বলে তারা মনে করে।’
বোর্ড ও দলের মধ্যে যোগাযোগে কিছুটা দূরত্ব রয়েছে বলে মনে করেন পাপন। তিনি বলেছেন, ‘এখানে যোগাযোগের কিছুটা ব্যবধান রয়েছে। কিছু বিষয় আছে পরিকল্পনা ও কৌশলে। প্রথম বার যখন আফগানিস্তানের সঙ্গে হয়েছে তখন তারা সবাই ধরে নিয়েছিল, এটা দুর্ঘটনা! হঠাত্ হয়ে গেছে। কিন্তু এইবার দুটো ম্যাচ খেলার পরে এখন সবাই বুঝতে পারছে, আসলেই এখানে কিছুটা ভুল রয়েছে।’
সবাইকে নিয়েই সমস্যা সমাধান করতে চান বিসিবি সভাপতি। সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ‘সমস্যা সমাধান কোনো কঠিন ব্যাপার না, এটা সহজ, কিন্তু সবাই যাতে এই সমস্যাটাকে স্বীকার করে, যদি একসঙ্গে সবাই স্বীকার করে তাহলেই তো সমাধানের জন্য কাজ করতে হবে। জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যায় না।’
