প্রত্যাশিত নির্বাচন করতে আর্থসামাজিক সাংস্কৃতিক পরিবেশ থাকতে হবে ----- আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২৩:০২

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, জনমতের সঠিক প্রতিফলন ঘটে—সকলের এমন প্রত্যাশিত নির্বাচন করতে আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক পরিবেশ থাকতে হবে। আমাদের সমাজ এখনো আধা সামন্তবাদী হওয়ায় নির্বাচনসহ নানা ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে যায়। সমাজকে এগিয়ে নিতে সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা থাকতে হবে। আমরা নতুন প্রজন্মের চোখ খুলে দিচ্ছি, তাদের নতুন পথও দেখিয়ে দিয়ে গেলাম।

তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়ার ইকড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় পার্টি-জেপি আয়োজিত এক কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, সামাজিক পরিবর্তনের ধারায় অবাধ-সুষ্ঠু-ভীতিমুক্ত-    সন্ত্রাসমুক্ত নির্বাচন ব্যবস্থা তথা ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। নির্বাচনে হার-জিত থাকবে, তারপরও নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে হবে। ভাড়াটে পেশিশক্তিকে কোনোক্রমেই ভোটগ্রহণে বরদাস্ত করা যাবে না। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সরাসরি স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের মধ্যকার বলে এখানে সব পর্যায়ের দায়িত্বশীলতা কাম্য। এই তৃণমূলের নির্বাচনকে যদি কেউ সংঘাতযুক্ত করতে চায় তাহলে তা যে কোনোভাবে প্রতিহত করার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। যারা আসন্ন ইউপি নির্বাচনে প্রভাব সৃষ্টি করতে চাইবে তাদের সব ভ্রান্ত চিন্তা পরিত্যাগ করা উচিত। সন্ত্রাসের পথ ছেড়ে দিতে হবে। ভোট দেওয়া নাগরিক অধিকার, তাতে কেউ বাধা সৃষ্টি করতে চাইলে জীবন থাকতে আল্লাহর হুকুমে আমরা তা মেনে নেব না। ’৮৪ সাল থেকে এলাকায় দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে রাজনীতি করছি। সব সময় বলেছি—আমাদের এক থাকতে হবে, এক থাকলে ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, বিদ্যুত্ এসবই অবকাঠামোগত উন্নয়ন। কিন্তু প্রকৃত উন্নয়ন হচ্ছে—যখন মানুষ অর্জিত শিক্ষা-সংস্কৃতিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের জীবনমানের উন্নতি ঘটাতে সক্ষম হয়।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ১৯৮৬ সালে যখন আমি ভাণ্ডারিয়ায় নির্বাচন করতে আসি, তখন স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি ছিল উপজেলা সদরে বিদ্যুত্ ব্যবস্থার উন্নয়ন। আজ ভাণ্ডারিয়া শতভাগ বিদ্যুতায়িত। ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ আছে এবং এখান থেকে আশপাশের উপজেলাগুলোতেও সমানভাবে বিদ্যুত্ সরবরাহ হয়। আমি প্রেসিডেন্ট এরশাদের মন্ত্রিসভায় সাত বছর এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় ১০ বছর কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। ৩৬ বছর ধরে সংসদে এলাকার প্রতিনিধিত্ব করছি। এই সময়কালে আমি সব সময় রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গেই সম্পর্ক রেখে কাজ করছি। এলাকায় যারা জনপ্রতিনিধি হন তাদের বুঝতে হবে তারা সব দল ও মতের প্রতিনিধিত্ব করেন। এরশাদ সাহেব সাত/আট বার ভাণ্ডারিয়ায় এসেছেন। এর কারণ এখানে শান্তি আছে, ঝগড়া-বিবাদ নেই, সবাই ঐক্যবদ্ধ। কিছু দ্বন্দ্ব-সংঘাত থাকলেও তা পশ্চাত্পদ সমাজের অবশেষ বংশ, গোষ্ঠী বা পারিবারিক পর্যায়ের, যা দূর করতে সময় লাগবে। যেদিন শিক্ষা-সংস্কৃতি-সামাজিক উন্নতি হবে, সেদিনই হবে প্রকৃত উন্নয়ন। উন্নয়ন যে হয়নি এ কথা বলব না। মানুষের উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন বলে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে হয়। দীর্ঘকাল ধরে সংসদে এবং মন্ত্রিসভায় অবস্থান করায় কীভাবে তা ম্যানেজ করি, যখন বিদেশে যাই অনেকে এমন প্রশ্ন করেন। অস্ট্রেলিয়ান এক মন্ত্রীর এরূপ প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলাম—আমাদের সৃষ্টিকর্তার নির্দেশেই এরকম কাজ করা সম্ভবপর হয়। ৩৬ বছরে আমি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করিনি। জীবনের এই অধ্যায়ে এসে করতেও চাই না।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেন, যে নিজের উপকার করতে জানে না, নিজের ভালো করতে পারে না, সে অন্যের উপকার তথা ভালো করতে পারে না। আমাদের শক্তির উত্স হচ্ছেন মহান আল্লাহ তায়ালা। তিনি বিভিন্ন সময় আমাদের এ শক্তি জোগান। আমাদের অনেক দূর যেতে হবে, দেশকে অনেক দূর নিয়ে যেতে হবে। অনেকে  বলেন ভাণ্ডারিয়ায় অনেক উন্নয়ন হয়েছে। শুধু উপজেলা সদর নয়, ভাণ্ডারিয়ার আনাচে-কানাচে সাতটি ইউনিয়নে যখন উন্নয়ন পৌঁছানো যাবে সেদিনই এ কথার সত্যতা মেনে নেওয়া যাবে। এখানে আমরা আওয়ামী লীগ-জাতীয় পাটি-জেপি মিলেমিশে কাজ করি। এলাকার মানুষ ঐক্যবদ্ধ না থাকলে কেন্দ্র থেকে কিছুই আনা সম্ভব হবে না। তাই সব সময় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে স্থানীয় নাগরিকদের উন্নয়নের প্রশ্নে এক থাকা বাঞ্ছনীয়।            

কর্মী সমাবেশে উপজেলা জেপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ইকড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হারেজের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা জেপির সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, উপজেলা জেপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ইকড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তানভীর হোসেন বাবু, ভিটাবাড়িয়া ইউপি ইউনিয়ন জেপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান সাব্বির, ইকড়ি ইউনিয়ন যুব সংহতির সভাপতি আবুল হাসান জোমাদ্দার প্রমুখ।

এ সময় মঞ্চে ছিলেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপির আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল হক মনি জোমাদ্দার, উপজেলা জেপির আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ভাণ্ডারিয়ার পৌর কাউন্সিলর গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা জাতীয় পার্টির (জেপি) উপজেলা সভানেত্রী আসমা আক্তার, উপজেলা জেপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান চৌধুরী, যুগ্ম-আহ্বায়ক কায়ছারুল ইসলাম মালকর, যুগ্ম-আহ্বায়ক হায়দার আলী হাওলাদার, যুগ্ম-আহ্বায়ক বজলুর রশীদ মৃধা, ভাণ্ডারিয়া পৌর জেপির সদস্য সচিব আহসানুল কিবরিয়া ফরিদ মল্লিক,  কাউখালী উপজেলা জেপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহআলম নসু,  কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান ও জেপি নেতা সিকদার দেলোয়ার হোসেন, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপি নেতা সফিকুল ইসলাম খোকন সিকদার, জেপি নেতা শাহারিয়ার হোসেন দুলাল মল্লিক প্রমুখ।

এছাড়া কর্মী সমাবেশে অঙ্গ-সংগঠনের উপজেলা নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন—যুব সংহতির সদস্য সচিব মামুনুর রশীদ সরদার, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক মনির সরদার ও সদস্য সচিব পৌর কাউন্সিলর মানিক হাওলাদার, ছাত্রসমাজের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন রাহত জোমাদ্দার ও সদস্য সচিব জহির উদ্দিন সরদার অন্তু, ইকড়ি ইউনিয়ন যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক রাসেল মাহমুদ প্রিন্স প্রমুখ।  

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি পূর্ব ভাণ্ডারিয়া তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার বাড়িতে বার্ষিক তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন।