সিলেটের পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২৩:০৪

সিলেট বিভাগের পেট্রোল পাম্পগুলো চাহিদার তুলনায় সরবরাহ পাচ্ছে না। বিভাগের ১১৪টি পেট্রোল পাম্পের সবগুলোই তেলশূন্য। বর্তমানে খুব কম তেল নিয়ে কোনোমতে চলছে। অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে দুই-তিন দিনের মধ্যে সিলেটের অনেক পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ চৌধুরী।

জুবায়ের আহমদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার ইত্তেফাককে বলেন, সিলেটে ডিজেল সরবরাহ ওয়াগন নির্ভর হওয়ায় প্রায়ই এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। সর্বোপরি সিলেটের গ্যাস ফিল্ডসমূহের খনি থেকে উত্তোলিত কনডেনসেট থেকে জ্বালানি তেল উত্পাদন প্রায় ছয় মাস থেকে বন্ধ থাকায় এ সংকট কাটিয়ে ওঠা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি ব্যক্তিস্বার্থে সিলেটের গ্যাস ফিল্ডসমূহের খনি থেকে জ্বালানি তেল উত্পাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। এ সমস্যা দ্রুত সমাধানসহ ৬ দফা দাবিতে গত ডিসেম্বরে পাম্পগুলো ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের ভিত্তিতে আগামী মার্চ পর্যন্ত সময় দিয়েছি। মার্চের ভেতরে সমস্যা সমাধান না হলে পেট্রোল পাম্পগুলো অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেবে।

জুবায়ের আহমদ বলেন, সিলেটের পাম্পগুলোতে নিম্নমানের তেল সরবরাহ করা হয়। আমাদের ছয়টি দাবির মধ্যে এটিও একটি। তিনি বলেন, পূর্বের ন্যায় সিলেট গ্যাস ফিল্ডের উত্পাদিত তেল আমাদেরকে দিতে হবে। সেই সঙ্গে চুক্তি বাতিল করতে হবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। দাবিগুলো অনেক পুরোনো। যদি মেনে না নেওয়া হয় তাহলে মার্চের পরে কঠোর আন্দোলনের ডাক দিতে বাধ্য হব। সিলেট বিভাগ পেট্রোল পাম্প অ্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে                 জানায় এসব পাম্পে প্রতিদিন পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের চাহিদা ১০ লাখ লিটারেরও বেশি। বিভাগের চার জেলায় ১১৪টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে সিলেট মহানগরীতে ৪৫টিসহ জেলায় মোট ৭০টি পাম্প রয়েছে। সব কটি পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেল আসে চট্টগ্রাম থেকে। আর সিলেটে তেল সরবরাহ ওয়াগন নির্ভর। এই ওয়াগন সংকটের কারণে সব সময় বিরূপ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় পাম্পগুলোকে।

এদিকে সিলেটের গ্যাস ফিল্ডসমূহের খনি থেকে উত্তোলিত কনডেনসেট থেকে জ্বালানি তেল উত্পাদন প্রায় ছয় মাস থেকে বন্ধ থাকায় এ সংকট দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে। সিলেটের জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা জানান, চট্টগ্রাম থেকে রেলের ওয়াগনের মাধ্যমে সিলেটে তেল আসে। নানা কারণে রেলের ওয়াগন চলাচল অনিয়মিত হয়ে পড়া ও কোনো কোনো দিন বন্ধ থাকায় বর্তমানে সিলেটের অধিকাংশ পাম্প রয়েছে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে।

তবে সিলেটের গ্যাস ফিল্ডসমূহের খনি থেকে উত্তোলিত কনডেনসেট থেকে জ্বালানি তেল উত্পাদন বন্ধ না হলে এমন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠা যেত বলে ব্যবসায়ীদের অভিমত।