পঞ্চম শ্রেণির বাংলা এবং ব্যাকরণ প্রস্তুতি

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৯:৪৬

মিরাজুল ইসলাম, প্রভাষক

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ

এই দেশ এই মানুষ

ঘ. ‘দেশ হলো জননীর মতো।’ দেশকে জননীর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে কেন?

উত্তর:আমাদের দেশে রয়েছে নানান প্রাকৃতিক সম্পদ। নদী, আকাশ, প্রান্তর, পাহাড়, সমুদ্র। এসব সম্পদ এক-একটি উত্স। মা যেমন আমাদের জন্ম দেন এবং তাঁর স্নেহ-মমতা দিয়ে আগলে রাখেন তেমনি আমাদের মাতৃভূমি তার আলো-বাতাস ও সম্পদ দিয়ে আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। মায়ের মতোই আমাদের জীবনে এদেশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে দেশ হলো জননীর মতো তাই দেশকে জননীর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

ঙ. জেলেদের পেশা কী? তারা যদি কাজ না করে তাহলে আমাদের কী হতে পারে?

উত্তর:আমাদর দেশে রয়েছে নানা পেশার মানুষ। তাদের মধ্যে অন্যতম জেলে। জেলেদের পেশা মাছ ধরা।

মাছ আমাদের খাদ্য তালিকার অন্যতম উপাদান। কেননা মাছ বাঙালির খুব প্রিয় খাবার। এ কারণে বলা হয় ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’। তাছাড়া মাছ থেকে আমরা পর্যাপ্ত আমিষ পেয়ে থাকি। জেলেরা যদি কাজ না করে অর্থাত্ মাছ না ধরে, তাহলে আমরা প্রয়োজনীয় আমিষের অভাবে নানা রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হব। এ কারণে জেলেরা কাজ না করলে আমরা খুব অসুবিধায় পড়ব। তাই আমাদের খাবার চাহিদা মেটাতে জেলেদের ভূমিকা খুবই গুরুতপূর্ণ।

চ. ‘ধর্ম যার যার, উত্সব যেন সবার।’- এ কথার দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর:যুগ যুগ ধরে মানুষ আমাদের দেশে মিলে-মিশে বসবাস করে আসছে। আমাদের সুন্দর এই বাংলাদেশের মতো মানুষের মাঝেও রয়েছে নানান বৈচিত্র্য। এদেশের নানা ধর্মের মানুষ বসবাস করে। প্রতিটি ধর্মের রয়েছে নিজ নিজ ধর্মীয় উত্সব।

এমন কিছু উত্সব রয়েছে, যেগুলো হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে উদ্যাপন করে। বাংলা নববর্ষে পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন তেমনি একটি উত্সব। তাছাড়া রাখাইনদের সাংগ্রাই ও চাকমাদের বিজু উত্সব ও নববর্ষ উপলক্ষে উদ্যাপন করা হয়। সবাই নিজ নিজ ধর্মীয় প্রথা নিজস্ব নিয়মেই পালন করেন। কিন্তু সর্বজনীন উত্সবগুলো সবাই মিলেমিশে উদ্যাপন করেন। এ কারণেই বলা হয়, ‘ধর্ম যার যার, উত্সব যেন সবার’।

হিমন এডওয়ার্ড গমেজ, সিনিয়র শিক্ষক, সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ

আমি আমার মাকে ভালোবাসি।

উপরের বাক্যটিতে মায়ের প্রতি আমাদের ভালোবাসার কথা প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের মনের এই ভাবটি কাউকে বোঝানোর জন্য আমরা তাকে কথাটি বলতে পারি বা লিখে বোঝাতে পারি। যেভাবেই তা করি না কেন উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের কিছু ধ্বনি বা চিহ্ন ব্যবহার করতে হবে।

মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য যেসব অর্থবোধক ধ্বনি বা চিহ্ন ব্যবহার করে তাকে ভাষা বলে। যেমন:বাংলা ভাষা, ইংরেজি ভাষা ইত্যাদি।

মাতৃভাষা :

I love my mother.

আমি আমার মাকে ভালোবাসি।

উপরে উল্লেখিত বাক্য দুটি লক্ষ্য করো। উভয় বাক্যের অর্থ একই। প্রথম বাক্যটি আমরা সবাই ঠিকমতো বোঝতে নাও পারি। কিন্তু দ্বিতীয় বাক্যটি সহজেই বোঝতে পারছি। এর কারণ বাক্যটি আমাদের মাতৃভাষা বাংলায় লেখা হয়েছে।

মায়ের কাছ থেকে শিশু জন্মের পর যে ভাষা শেখে তা-ই তার মাতৃভাষা। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। ইংরেজদের মাতৃভাষা ইংরেজি।

ভাষার রূপ ও রীতি :

ভাষার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশের দুটি উপায় রয়েছে। একটি কথা বলে, আরেকটি লিখে।

কথা বলার ভাষাকে বলা হয় কথ্য ভাষা। আর লেখার ভাষাকে বলে লেখ্য ভাষা। নিচের ছকটি লক্ষ্য করো-

আঞ্চলিক ভাষা ও প্রমিত ভাষা :

নিচের বাক্য দুটি খেয়াল কর-

ঔগেগায়া মাইনেষ্যর দুয়া পোয়া আছিল্।

একজনের দুটো ছেলে ছিল।

আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের রয়েছে নিজস্ব ভাষারীতি। এ রীতিকে বলা হয় আঞ্চলিক ভাষা।