স্মরণীয় যাঁরা বরণীয় যাঁরা

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৯:৪৬

নিকোলাস কোপারনিকাস:পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘোরে এই মতবাদের প্রবক্তা

ড.ফাল্গুনী রানী চক্রবর্তী, সহযোগী অধ্যাপক

বঙ্গবন্ধু সরকারি মহাবিদ্যালয়, নওগাঁ

পোল্যান্ডের টোরুন শহরে জন্মগ্রহণ করেন নিকোলাস কোপারনিকাস। জার্মান বংশোদ্ভুত এক ধনী পরিবারের সন্তান তিনি। মাত্র দশ বছর বয়সে তিনি পিতৃহারা হন। পিতার মৃত্যুর পরে মামার বাড়িতে থেকে পড়াশুনা করেন। চিকিত্সা, আইন ও ধর্মীয়শাস্ত্রে অধ্যয়নের জন্য তিনি ইটালিতে যান। এখানেই পরিচয় হয় প্রখ্যাত দার্শনিক প্লেটো এবং সে সময়ের ইটালির বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ডোমেনিকোর সাথে। গুণী ব্যাক্তির সান্নিধ্যই তাঁকে উদ্ধুদ্ধ করে মহাকাশ বিজ্ঞানের প্রতি। সে সময় গভীর গবেষণায় মনোনিবেশ করেন। ১৫০০ সালে তিনি রোম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। মহাকাশের গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান সম্পর্কে গভীর আগ্রহ থেকেই অনুসন্ধানী হয়ে ওঠেন।

বহুবছর আগে গ্রিক যুগের একজন প্রখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্লডিয়াসটলেমি বলেছিলেন:পৃথিবীকে কেন্দ্র করে সূর্যসহ অন্যান্য গ্রহ-নক্ষত্রগুলো আবর্তিত হয়। এই মতবাদটি সম্পর্কে কোপারনিকাস সন্দেহ প্রকাশ করেন। যেহেতু সে সময় টেলিস্কোপ ছিলনা, তাই গাণিতিক পদ্ধতির উপর নির্ভর করা ছাড়া উপায় ছিল না। কোপারনিকাস যখন গির্জার যাজক ছিলেন, তখন মহাকাশ সম্বন্ধে গবেষণার ভালো সুযোগ পান। তিনিই প্রথম বলেন, পৃথিবী নয়, সূর্যই হলো সৌরজগতের কেন্দ্রবিন্দু। সূর্যই সমগ্র সৌরজগতকে আলোকিত করে। তাঁর মতবাদের নাম: ‘কোপারনিকীয়

মতবাদ’। তবে তাঁর গবেষণালব্ধ মতবাদসমূহ চাপাতে সাহস করেননি, কারণ তিনি ছিলেন গির্জার যাজক।

তাঁর মতবাদ প্রচলিত ধর্ম বিশ্বাসের সম্পূর্ণ বিরোধী। তাঁর বিপ্লবাত্মক মতবাদ লিপিবদ্ধ হওয়ার পরেও দীর্ঘ প্রায় তেরো বছর অপ্রকাশিত রাখতে হয়। গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৫৪৩ সালে। মৃত্যুর মাত্র ঘণ্টাখানেক আগে।

গ্রন্থটির নাম:‘DE REVALUTIONIBUS ORBIUM CELESTIM’.

কোপারনিকাস আরো বলেন, সূর্যের চারিদিকে পৃথিবী ঘোরে বলেই ঋতু পরিবর্তন সম্ভব। আর পৃথিবী তাঁর নিজ অক্ষের উপর আবর্তিত হয় বলেই দিন-রাত্রি হয়।

এই মহান বিজ্ঞানী ১৫৪৩ সালে ২৪ মে পোল্যান্ডের ফ্রুয়েন বার্গে ৭০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।