ইসরাইলি গবেষকদের দাবি
আল জাজিরা
ফাইজার-বায়োএনটেকের তৈরি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ ৮৫ শতাংশ কার্যকর বলে দাবি করেছেন ইসরাইলি গবেষকরা। দেশটির একটি হাসপাতালে নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এমন দাবি করেছেন তারা। বিশ্বখ্যাত ল্যানসেট সাময়িকীতে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী ফাইজারের টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার ২১ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার কথা। দুই ডোজে ৯৫ শতাংশ সুরক্ষা নিশ্চিত হয় বলে দাবি করা হয়ে থাকে। তবে ভ্যাকসিন সরবরাহজনিত বিলম্বকে কেন্দ্র করে কোনো কোনো দেশের সরকার আপাতত এক ডোজ করে টিকা দিয়ে বেশি মানুষকে সুরক্ষার আওতায় আনার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি কানাডার গবেষকরাও দাবি করেছেন, এক ডোজ টিকাকেই উচ্চ মাত্রার সুরক্ষা নিশ্চিত হয় এবং দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগে বিলম্ব করা যেতে পারে। তবে সমালোচকদের অনেকের দাবি, এক ডোজ টিকা নেওয়ার পর পর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় না।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্ব জুড়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই মেডিক্যাল সেন্টারের ৭ হাজার ২১৪ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে নিয়ে গবেষণা করেছেন ইসরাইলি গবেষকরা। এসব স্বাস্থ্যকর্মী জানুয়ারিতে ফাইজারের টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, ১৫ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে উপসর্গযুক্ত কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৮৫ শতাংশ কমেছে। আর উপসর্গহীন রোগসহ সব মিলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমেছে ৭৫ শতাংশ। গবেষকরা অবশ্য জানিয়েছেন, তারা যেসব স্বাস্থ্যকর্মীকে নমুনা হিসেবে নিয়েছেন, তাদের বেশির ভাগই তরুণ ও স্বাস্থ্যবান এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা খুবই কম।
নতুন এ গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ফাইজার। বিশ্বে আসলেই ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতা কেমন তা নিয়ে নিজস্ব গবেষণা চলছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি । করোনা ভাইরাসের নতুন ধরনের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা কেমন, তা জানতে ইসরাইলি গবেষণার তথ্য সহায়ক হবে বলে জানিয়েছে ফাইজার। এর আগে ফাইজারের ভ্যাকসিনের এক ডোজ নেওয়ার পর কোভিড-১৯ থেকে ৯০ শতাংশ সুরক্ষা মিলছে বলে দাবি করেছিলেন যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা।
