মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
মিরসরাই উপজেলার মিঠাছড়া বাজারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বেহাল। বাজারের সব আবর্জনা ফেলা হচ্ছে মিঠাছড়া মাছবাজারের পূর্ব পাশে মহামায়া ছড়ায়। এছাড়া মিঠাছড়া মাছবাজারের কয়েক শ গজ উত্তরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশের একটি কসাইখানা থেকে গরু জবাইয়ের পর অপ্রোয়জনীয় অংশ ফেলা হয় ঐ মহামায়া ছড়াতে। দুর্গন্ধে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মিঠাছড়া বাজারের হাজারো ক্রেতা, বিক্রেতা ও পথচারী। এছাড়া মাছবাজারের দক্ষিণ পাশে ফেলা আবর্জনার স্তূপে ঢাকা পড়েছে গণশৌচাগার। মিঠাছড়া বাজারে আসা ক্রেতা খুরশিদ আলম বলেন, ‘শুনেছি বাজার কমিটির নির্দেশে বাজারের আবর্জনা এখানে ফেলা হয়। দুর্গন্ধে বাজারে টেকা দায়। মাছবাজারে দুইটি মাস্ক পরে ঢুকলেও গন্ধ থেকে নিস্তার পাই না।’ ক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এমনিতেই মাছবাজারে আবর্জনার গন্ধ, তার ওপর কিছু অসচেতন মানুষ সেই আবর্জনায় প্রশ্রাব করেন। এছাড়া পাশেই কসাইখানা। গরু জবাইয়ের পর অবশিষ্টাংশ ফেলা হয় মহামায়া ছড়ায়। আবর্জনার গন্ধে মিঠাছড়া বাজারে খুব একটা আসি না।’
মিঠাছড়া মাছবাজারের স্থায়ী আড়তদার রতন কুমার দাশ বলেন, ‘বাজারের কেউই এই অসহ্য দুর্গন্ধের বিষয়ে কথা বলে না। দুর্গন্ধে মিঠাছড়া মাছবাজারে ক্রেতা কমে গেছে। মাছবাজারের আশপাশে দোকানদাররা বসতে পারেন না।’ মিঠাছড়া বাজারের মাছব্যবসায়ী প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ‘বাজারে দুর্গন্ধের বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি; কিন্তু লাভ হয়নি। আবর্জনার মধ্যে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দেখা গেছে, দুর্গন্ধ আরো বেড়ে যায়।’ মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিনহাজুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমি দ্রুত মিঠাছড়া বাজারের ঐ স্থানটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। বাজারের ভেতর কোনো ধরনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করা যাবে না।’ ৯ নম্বর মিরসরাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মিঠাছড়া বাজার কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ এমরান উদ্দীন বলেন, ‘মিঠাছড়া বাজারের বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য চেষ্টা করেছি। আগের এক নির্বাহী কর্মকর্তাকে দিয়ে আমি মিঠাছড়ায় একটি বর্জ্য শোধনাগার করতে চেয়েছিলাম; কিন্তু তিনি বদলি হওয়ার পর বিষয়টি আর এগোয়নি। এখন আমি বর্তমান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।’ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানেটারি ইন্সপেক্টর শংকর প্রসাদ বিশ্বাস বলেন, ‘মিঠাছড়া বাজারের উত্তরপাশের কসাইখানাটি সরানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছি; কিন্তু জায়গা সংকটে তা করা যায়নি। তখন ঐ কসাইখানায় নিরাপদ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে বলা হয়েছিল; কিন্তু বর্তমানে তারা নিয়ম না মানার কারণে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
