কোম্পানীগঞ্জে মির্জা কাদেরের গাড়ি বহরে হামলা, ২৩ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত ৬০

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৪৭

কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) সংবাদদাতা

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে কাদের মির্জার গাড়ি বহরে হামলায় ২৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ সময় সংঘর্ষে উভয়পক্ষে আহত হয়েছে ৬০ জন। স্থানীয় সূত্র ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের চাপরাশিরহাট পূর্ববাজারে একরামুল করিম চৌধুরীর সমর্থক কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের নেতৃত্বে বসুরহাট পৌরসভার কাদের মির্জার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল চরফকিরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের দিকে যায়। কার্যালয়ে থাকা আবদুল কাদের মির্জা গ্রুপের চরফকিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন লিটনসহ নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। এতে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। একরাম চৌধুরী গ্রুপের লোকজন অস্ত্র দিয়ে মির্জা গ্রুপের লোকজনকে গুলি করতে থাকে। সংঘর্ষে মির্জা গ্রুপের ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধদের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচ জনকে অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত ডাক্তার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বাকিদেরকে সাধারণ চিকিত্সা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আহতদের মধ্যে আবদুল কাদের মির্জা গ্রুপের সমর্থকরা হলেন সাইদুর রহমান, কামরুল হাসান, নুরুল অমিত, কাঞ্চন, মিঠু, সাইফুর রহমান, কামাল পাটওয়ারী, মেহেদী হাসান, ফরহাদ, বাপ্পি, মেহেরাজ, রুহুল আমিন, একরাম গ্রুপের সমর্থকরা হলেন শাওন, সাব্বির, শামীম, দেলোয়ার, মাষ্টার, নসু। পুলিশ ১২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ব্যাপারে চরফকিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন লিটন জানান, একরামুল করিম চৌধুরীর এপিএস সুনিল দাসের নেতৃত্বে ২০০-৩০০ অস্ত্রধারী বাদলের সমর্থকদের সঙ্গে মিলে আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং গুলি করে।  অপরদিকে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘তথাকথিত এমপি একরাম করিম চৌধুরী           এবং নিজাম হাজারীর নির্দেশে মিজানুর রহমান বাদলের নেতৃত্বে চাপরাশিরহাট চরফকিরা ইউনিয়নের আমার নিরীহ নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের সহযোগিতায় গুলিবর্ষণ করে। এতে আমার অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। একরামের বাড়িতে মিটিং করে ডিসি, এসপি, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি ও ওসি তদন্তের সহযোগিতায় এ হামলা চালায়। এর দায়-দায়িত্ব ওবায়দুল কাদের ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিনকে নিতে হবে।’

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) রবিউল হক জানান, ১২ রাউন্ড ফাঁকাগুলি ছুড়ে ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

গতকাল সংঘর্ষের পর নতুন বাজার এলাকায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মির্জা কাদেরকে অবরুদ্ধ করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। পরে র্যাব তাকে উদ্ধার করে। গতকালের ঘটনার পর মির্জা কাদেরের পক্ষ থেকে কোম্পানীগঞ্জে শনিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ঘোষণা করা হয়।

আজ লাঠিসোঁটা নিয়ে থানার সামনে অবস্থান ধর্মঘটে আসবেন : মির্জা কাদের

এর আগে শুক্রবার সকালে থানার সামনে দুই ঘণ্টা অবস্থান ধর্মঘট পালনকালে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা সবাই আজ শনিবার লাঠিসোঁটা নিয়ে থানার সামনে অবস্থান ধর্মঘটে আসবেন। আপনারা হাজার হাজার নারী-পুরুষ এ লাঠিসোঁটা নিয়ে আসবেন। আজ শনিবার কোম্পানীগঞ্জ থানার সামনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট চলবে। ধর্মঘট শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই মির্জা কাদের আরো বলেন, সব অপশক্তি আজ একত্র হয়েছে। এদেরকে প্রতিহত করতে হবে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মো. সাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে ঢাকায়, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল এবং আমার ভাগিনা রাহাতের নেতৃত্বে কোম্পানীগঞ্জে অপশক্তিরা একজোট হয়েছে। এদেরকে একরাম চৌধুরী ও নিজাম হাজারীরা টাকা দিয়ে এসব করাচ্ছে।

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে অপশক্তি পেলেই হাঁটুর নিচে মেরে থানায় দিয়ে দিবেন, থানা বিচার না করলে জনতাকে দিয়ে দিবেন।’ হেফাজত ইসলামের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি কোম্পানীগঞ্জে হেফাজত ইসলামের জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ করেছি। অথচ তারা নোয়াখালীতে আমার বিরুদ্ধে জনসভা করে এবং বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছেন। হেফাজত ইসলামের এ জনসভার অর্থের জোগানদাতা হলো নোয়াখালীর এমপি একরামুল করিম চৌধুরী ও ফেনীর এমপি নিজাম হাজারী। এরাই আমার বিরুদ্ধে জনসভা করার জন্য হেফাজতকে লেলিয়ে দিয়েছে।