ক্রিকেট খেলার দ্বন্দ্বের জের

সাভারে জাবি শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর সংঘর্ষ আহত অর্ধশত

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:৩৫

ক্রিকেট খেলায় দ্বন্দ্বের জেরকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, ধাওয়া পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা চলাকালে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে। গতকাল শুক্রবার রাতে সাভারের পাথালিয়া ইউনিয়নের গেরুয়া বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময়ে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ ও ধাওয়া পালটা ধাওয়ায় অন্তত অর্ধশত লোক আহত হয়েছে যাদের অধিকাংশই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এ সময়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলছিল।

জানা গেছে, গত ১১ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের গেরুয়া বাজার এলাকায় ‘সম্প্রীতি বাতিঘর’ নামের একটি সংগঠন ক্রিকেট খেলার আয়োজন করে। সেই খেলায় একটি দলের পক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক জন শিক্ষার্থী খেলতে যায়। ঐ খেলাকে কেন্দ্র করে একদল সন্ত্রাসী লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সেদিনই বাতিঘর অফিসে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। সেই সঙ্গে দুটি বিকাশের দোকানসহ তিনটি দোকানে তালা ঝুলিয়ে বেশ কয়েকটি বাড়ির লোকজনকে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়।

ঐ ঘটনার জেরে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় গেরুয়া বাজার এলাকার নজরুল নামে এক যুবককে নিজ বাড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভাড়া বাসায় নিয়ে মারধর করে। পরে মারধরের কথা ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী মাইকিং করে সবাইকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার আহ্বান জানায়। এরপর স্থানীয়রা লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে, শুরু হয় ধাওয়া-পালটা ধাওয়া। বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দও শোনা যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়। সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। 

ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। গেরুয়া বাজার এলাকায় দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। সেখানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও শতাধিক শিক্ষার্থী গেরুয়া এলাকায় ভাড়া বাড়িতে বসবাস করে আসছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, গেরুয়া এলাকার মেসে এখনো অন্তত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আটকা পড়ে আছে। তাদের উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিষ্ক্রিয়। তাই সহপাঠীদের উদ্ধারের জন্য তাদেরকে মাঠে নামতে হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তারপরেও আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি। পুলিশের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন স্থানীয়দের শান্ত রাখেন।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।