কুমিল্লার চান্দিনায় মাত্র এক দিনের ব্যবধানে দুইটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার রাতে চান্দিনা থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রথম মামলাটি করেছেন এক কলেজছাত্রী এবং দ্বিতীয় মামলাটি করেছেন এক বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ের বাবা।
প্রথম মামলাটির অভিযোগে চান্দিনার একটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ঐ ছাত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিন পেটের পীড়ায় ভোগার কারণে জেঠাতো ভাইয়ের পরামর্শে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি হারং উত্তরপাড়া আল কারিম মাদ্রাসায় এক হুজুরের কাছে আমি ঝাড়-ফঁকু করাতে যাই। হুজুর প্রথম দিন পানিতে ফুঁ দিয়ে আরো কয়েক দিন সেখানে যেতে বলেন। হুজুরের কথা মতো বুধবার সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পর হুজুর জানান আমাকে নাকি জ্বিনে ধরেছে। আমার ওপর জ্বিনের চালান দেওয়ার কথা বলে তার অফিসে নিয়ে দরজা আটকিয়ে জোরপূর্বক আমাকে ধর্ষণ করে সে। এ সময় আমি চিত্কার দিলেও আশপাশে কোনো বাড়িঘর না থাকায় কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে আমি আমার পরিবারকে বিষয়টি জানিয়ে বৃহস্পতিবার থানায় মামলা দায়ের করি।’
অপরদিকে, দ্বিতীয় মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল ইউনিয়নের গাবগাছিয়া গ্রামে ১৮ বছর বয়সি এক বাকপ্রতিবন্ধী নারী প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হওয়ার পর পার্শ্ববর্তী বাড়ির লিমন মিয়াজী (২০) নামে এক যুবক জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে।
চান্দিনা থানার ওসি শামসউদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, প্রাথমিক তদন্তে দুটি ধর্ষণের ঘটনারই সত্যতা পাওয়া যায়। কলেজছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় মাদ্রাসার হুজুর মো. শাহপরানকে আটক করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে আটকের চেষ্টা চলছে। আটক মো. শাহপরান চান্দিনা উপজেলার এতবারপুর গ্রামের মো. সুন্দর আলীর ছেলে।
