সুনামগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো বাঁধকে কেউ অপ্রয়োজনীয় আবার একই বাঁধকে কেউ প্রয়োজনীয় বলে দাবি করছেন। শহরের ধারারগাঁও ফেরিঘাটের পূর্বপাশে জেলা প্রশাসনের সুরমা ভেলি পার্কের ওপর পাউবোর বাঁধ নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তবে কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন জেলা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বললেন, তিনি সুনামগঞ্জে নতুন এসেছেন। পার্কের ওপর বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে সরেজমিনে না দেখে সঠিকভাবে কিছু বলা যাবে না।
স্থানীয়রা জানান, শহরতলীর কুুরবাননগর ইউনিয়নের ধারারগাঁও-এ জেলা প্রশাসনের সুরমা ভেলি পার্কের ওপর ২০ লাখ ৯১ হাজার টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। তারা বলেন, পার্কের পেছনে গ্রাম ও সড়ক থাকায় বোরো ফসলের জন্য এটি অপ্রয়োজনীয় বাঁধ।
সুনামগঞ্জ শহরের নবীনগরের বাসিন্দা উন্নয়নকর্মী সালেহীন চৌধুরী শুভ বললেন, ‘হাওরের বোরো ফসল রক্ষার জন্য হাওরেই বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়। ফসল রক্ষার নামে পার্কের ওপরে অপ্রয়োজনীয় বাঁধ- অর্থ অপচয়।’ হাওর বাঁচাও আন্দোলন, সুনামঞ্জ জেলা কমিটির আহ্বায়ক সুখেন্দু সেন বলেন, ‘ফসল রক্ষা বাঁধ হাওরে হয়। কিন্তু পার্কের বাঁধের কাছে কোনো ফসল নেই ও এই বাঁধের সঙ্গে ফসলের সম্পর্ক নেই। এটা একটা অপ্রয়োজনীয় বাঁধ’।
কিন্তু বাঁধের পার্শ্ববর্তী ধারারগাঁও-এর কৃষকরা বলেছেন ভিন্ন কথা। তারা বলেন, এই বাঁধ হওয়ায় এখন গ্রাম, পাকা রাস্তা বাঁচবে, ফসলও বাঁচবে। বাঁধের নিকটবর্তী বাড়ির বাসিন্দা নেকবর আলী বলেন, বর্ষায় বন্যায় তাদের ঘর-বাড়ি যাতে না ভাঙে এজন্য বাঁধ দেওয়া হয়েছে। একই কথা বলেছেন গ্রামের কৃষক আশরাফ আলীসহ অনেকেই।
এদিকে কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়াসমিন নাহার রুমা বলেন, তিন বছর ধরে এলাকাবাসীর অনুরোধ ছিল ও ইউনিয়ন পরিষদের দাবি অনুযায়ী পার্কের কাছের বাঁধটি হচ্ছে। তাদের দাবি এদিকে পানি ঢুকে রাস্তা-ঘাট ভেঙে গ্রাম তলিয়ে যায়। ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপজেলা কারিগরি কমিটির সুপারিশেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়। কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন জেলা কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (১) মো. সাবিবুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয়দের দাবি ও সদর উপজেলা কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে’। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে যারা যুক্ত হতে পারেননি, তারাই মনগড়া অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে সুনামগঞ্জের হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নিয়ে নানা কৌশলে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া আবার কোথাও একভাবে প্রাক্কলন তৈরি করে আরেকভাবে বাঁধের কাজ করার অভিযোগ। এমন অভিযোগ এসেছে জামালগঞ্জের হালির হাওর থেকে। নির্বাহী প্রকৌশলী সাবিবুর রহমান বলেন, কোথাও অতিরিক্ত বরাদ্দ হয়নি। এমন কাজের সুযোগও নেই। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে যারা যুক্ত হতে পারেনি, তারাই মনগড়া অভিযোগ দায়ের করে।
