তিতাসে লাইসেন্সবিহীন ওষুধের দোকানের ছড়াছড়ি

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৯:১০

কুমিল্লার তিতাসে লাইসেন্সবিহীন ওষুধের দোকানের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলছে। করোনার সময়ে অন্যান্য ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দেওয়ায় ব্যবসার ধরন পালটে অনেকে ওষুধের দোকানের প্রতি ঝুঁকছেন। ধার ধারছে না কোনো ধরনের লাইসেন্সের। ফলে লাইসেন্সবিহীন চলছে ওষুধ ব্যবসা। যেসব ফার্মেসির লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে তাদের নবায়নের ক্ষেত্রেও নেই কোনো আগ্রহ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ২০১৪ সালের তালিকা অনুযায়ী ১৯০টি ফার্মেসি রয়েছে। এদের মধ্যে শতাধিক ফার্মেসির লাইসেন্স থাকলেও লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসি রয়েছে প্রায় ৬০টি। বাকি ৩০টি ফার্মেসির মেয়াদ শেষ হলেও এদের মধ্যে কিছু ফার্মেসি লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করেছেন। উপজেলা সদর কড়িকান্দি, বাতাকান্দি, মাছিমপুর, আসমানিয়া, গাজীপুরসহ এলাকার অধিকাংশ ফার্মেসির লাইসেন্সের মেয়াদ থাকলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাটবাজারে ফার্মেসিগুলো চলছে লাইসেন্সবিহীন।

অথচ ওষুধ ব্যবসার জন্য লাইসেন্সের প্রয়োজন হয়। সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ ছাড়া ওষুধের দোকান করার আইনগত বৈধতা নেই। এসব শর্তে অন্যতম হচ্ছে বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ফার্মেসি রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট গ্রহণ করা। কেমিস্টস ও ড্রাগিস্টস সমিতির ব্যবস্থাপনায় তিন মাসের ফার্মেসি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার পর ফার্মেসি কাউন্সিল উক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা করে। পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হন তারাই কেবল ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর কর্তৃক লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতির উপজেলা শাখার সভাপতি মো. কামাল হোসেন কালামের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে কুমিল্লা জেলার ওষুধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, তিতাসে অর্ধশতাধিক ফার্মেসির লাইসেন্স নেই। নবায়ন করার জন্য কিছু আবেদন জমা আছে। যেসব ফার্মেসির লাইসেন্স নেই কিংবা নবায়নের জন্য আবেদন করেনি শিগিগরই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/এমআর