মো. কামরুল হাসান, সহকারী শিক্ষক ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল
জাহানাবাদ সেনানিবাস, খুলনা
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বইটি ভালো করে পড়তে হবে
‘যেখানেই মানুষের সাধারণ ভীতি,
সেখানেই থাকা প্রয়োজন সমপ্রীতি;
যেমন:বাংলা ব্যাকরণ ও জ্যামিতি।’
শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদের অনেকের মাঝে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের ব্যাকরণ অংশে ভীতি লক্ষ্য করা যায় এবং যথাযথ চর্চা না করায় ফলাফল বিপর্যয়ের সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং বাংলা দ্বিতীয় পত্রে ব্যাকরণ অংশে ভালো করার জন্য এখনই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির উপযুক্ত সময় । ভালো প্রস্তুতি না নিলে ভালো ফলাফল করা সম্ভব হবে না । তাই ভালো ফলাফল করতে হলে অধ্যায়ভিত্তিক ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া আবশ্যক ।
পরীক্ষার্থী বন্ধুরা, বাংলা দ্বিতীয়পত্রে ভালো করতে হলে বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বইটির পুনর্বিন্যাসকৃত সিলেবাসের প্রতিটি পৃষ্ঠা গুরুত্বসহকারে ও ভালোভাবে পড়তে হবে । বইটিতে ৫টি অধ্যায়ে মোট ৩২টি পরিচ্ছেদ আছে। প্রশ্নপত্রে সাধারণত প্রতিটি পরিচ্ছেদ থেকেই ১টি করে প্রশ্ন রাখার চেষ্টা করা হয়ে থাকে । সুতরাং কোনো অধ্যায়ের কোনো পরিচ্ছেদকে অগুরুত্বপূর্ণ মনে করার কোনো সুযোগ নেই । এ ক্ষেত্রে কঠিন বিষয়গুলো যেমন :ধ্বনিতত্ত্ব, ধ্বনির পরিবর্তন, সন্ধি, সমাস, ধাতু, প্রত্যয়, ক্রিয়াপদ, ক্রিয়া-বিভক্তি, কারক, বাচ্য, বাক্যে পদ-সংস্থাপনার ক্রম পরিচ্ছেদগুলো বুঝে পড়তে হবে । সন্ধির ক্ষেত্রে উদাহরণ মুখস্থ না করে নিয়মগুলো বোঝার চেষ্টা করবে । বাক্য সংক্ষেপণ, বাগধারা, ণত্ব ও ষত্ব বিধান, বিপরীতার্থক শব্দের উত্তর প্রদানের সময় বানানের সঠিকতার ওপর বিশেষ দৃষ্টি রাখবে। সন্ধি, সমাস, প্রত্যয়, পুরুষ ও স্ত্রীবাচক শব্দ, ণত্ব ও ষত্ব বিধানের ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়মের পাশাপাশি নিপাতনে সিদ্ধগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে । বচন, কাল, প্রত্যয় ও বাংলা অনুজ্ঞা-তে বিশেষ নিয়মে গঠিত উদাহরণগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।
ব্যাকরণ অংশের প্রায় সকল প্রশ্নই প্রয়োগমূলক বিধায় অনুশীলন আবশ্যক । বিভিন্ন অধ্যায় ভাগ করে নিয়ে কোন অংশে কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, সেটি বুঝে পড়বে । সকল অধ্যায় খুব মনোযোগ দিয়ে কয়েকবার পড়ে নিয়ে প্রয়োজনীয় অংশগুলো মার্কার দিয়ে চিহ্নিত করে রাখবে এবং বারংবার অনুশীলন করবে ।
শেষ মুহূর্তে ভালোভাবে প্রস্তুতির জন্য টেস্ট পেপার অপরিহার্য । টেস্ট পেপার থেকে প্রশ্নপত্র পরীক্ষায় আসবে না । কিন্তু টেস্ট পেপার থেকে স্বনামধন্য কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সমাধান করে পড়লে ভালো ফলাফল করা তুলনামূলক সহজতর হয় । প্রশ্নের ধারা ও ধারাবাহিকতা সম্পর্কে জানা যায় বলে প্রশ্নভীতি দূর হয়ে থাকে । পাশাপাশি চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য আরও কতটুকু ঘাটতি আছে তা সহজেই বোঝা যায় ।
ভালো ফলাফল করার জন্য প্রখর মস্তিষ্কের সাথে সাথে পরিশ্রম ও বুদ্ধিদীপ্ত পড়াশোনা করা প্রয়োজন। সেজন্য পড়ার সময় কিছু কৌশল অবলম্বন করে পড়লে তা খুবই কার্যকরী হয় ।

