হিমন এডওয়ার্ড গমেজ, সিনিয়র শিক্ষক, সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ
আঞ্চলিক ভাষা ও প্রমিত ভাষা
নিচের বাক্য দুটি খেয়াল করো-
ঔগেগায়া মাইনেষ্যর দুয়া পোয়া আছিল্।
একজনের দুটো ছেলে ছিল।
আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের রয়েছে নিজস্ব ভাষারীতি। এ রীতিকে বলা হয় আঞ্চলিক ভাষা। প্রথম বাক্যটি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষারীতি। আবার এই কথাটিই নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষেরা তাদের আঞ্চলিক ভাষায় বলবে- ‘অ্যাকজনের দুই হুত আছিল্’। আঞ্চলিক ভাষা একেক স্থানে একেক রকম বলে এক অঞ্চলের মানুষের পক্ষে অন্য অঞ্চলের ভাষা বোঝা কঠিন হয়। আবার উপরের দ্বিতীয় বাক্যটি এদেশে সব অঞ্চলের মানুষই বুঝতে পারবে। এভাবে সব ধরনের ভাষারীতিরই এমন একটি রূপ রয়েছে যেটির মাধ্যমে সকল শ্রেণির মানুষের কাছেই মনের ভাব প্রকাশ করা সম্ভব হয়। এই রূপটির নাম প্রমিত ভাষা।
সাধু ও চলিত ভাষা:
নিচের বাক্য দুটি পড়ো।
তাহারা ফুল তুলিতেছে।
তারা ফুল তুলছে।
দুটি বাক্যের মধ্যে পার্থক্য লক্ষ্য করো। প্রথম বাক্যের সর্বনাম পদ (তাহারা)-টির আকার দ্বিতীয় বাক্যের সর্বনাম পদ (তারা)-এর চেয়ে বড়। আবার প্রথম বাক্যের ক্রিয়াপদ (তুলিতেছে)-এর আকার দ্বিতীয় বাক্যের ক্রিয়াপদ (তুলছে)-এর তুলনায় বড়। আকারে বড় অর্থাত্ প্রথম রূপটির নাম সাধু ভাষা, আর আকারে ছোট অর্থাত্ দ্বিতীয় রূপটির নাম চলিত ভাষা। সাধুভাষা মূলত ব্যবহার করা হয় সাহিত্য রচনায় বা বই পুস্তকে। কথা বলার জন্য আমরা সাধু ভাষা ব্যবহার করি না। চলিত ভাষাতেই আমরা সাধারণত কথা বলে থাকি। তবে বর্তমানে লেখালেখির ক্ষেত্রেও চলিত ভাষার ব্যবহারই বেশি চোখে পড়ে।
