বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান বোঝার জন্য বাংলায় কোনো সহায়ক বই পায় না বললেই চলে। আর যত্রতত্র বাংলা বানানের যে অবস্থা, তা দেখে বোঝারই উপায় নেই যে এ ভাষার পেছনে রয়েছে রক্তাক্ত ইতিহাস। সরকারি, আধা-সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের নামের বানানেই রয়েছে অসংখ্য ভুল!
বাংলা ভাষায় পরিচর্যার জন্য ‘বাংলা ভাষা ইন্সটিটিউট’ প্রতিষ্ঠা হলেও নেই ভাষা বিষয়ক কোনো গবেষণা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নেই বাংলা ভাষা সমৃদ্ধ করার কোনো ইন্সটিটিউট। এমনকি অনেক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগও নেই। আর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে তো বাংলা বিষয়ই নেই। যে জাতি ভাষার জন্য এত সংগ্রাম করেছে, তাদের জন্য কি এসব অপরিহার্য বিষয় নয়?
অথচ সারা পৃথিবীতে প্রায় ৩০টি দেশের ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু রয়েছে বাংলা বিভাগ। সেখানে বহু অবাঙালি বাংলা ভাষা শিক্ষা ও গবেষণার কাজ করছেন। বাংলা ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে বহিঃবিশ্বে ভারত ও বাংলাদেশের পর ব্রিটেন ও আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি চর্চা হয়ে থাকে। এর বাইরে চীন, জাপান, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, জার্মানি, পোল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বাংলা ভাষার সংস্কৃতি চালু হলেও আমরাই রয়েছি পিছিয়ে।
আমেরিকায় কমপক্ষে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও এশীয় গবেষণা কেন্দ্রে বাংলা ভাষার চর্চা হচ্ছে। অথচ আমরা কথায় কথায় ইংরেজি না বললে যেন তৃপ্তিই পাই না। তাই এখনই সময় সচেতনতা তৈরি করার ও সচেতন হওয়ার। যে সচেতনতা আমাদেরকে শুদ্ধ বাংলা ভাষার চর্চা ও ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করবে। বাংলা বানান তদারকির জন্য রাষ্ট্রের পদক্ষেপ নিতে হবে। বেতার-টেলিভিশনে শুদ্ধ বাংলা চর্চার জন্য দিতে হবে তাগাদা। নইলে আমাদের বাংলা ভাষার সংগ্রাম ও গৌরবের ইতিহাস উজ্জ্বলতা হারাবে।
সায়মা জাহান সরকার
