‘শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো ইসলাম ধর্মবিরোধী, এটা বেদাত, এটা মূর্তি পূজার সমান’—গত শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবায় মসজিদের পেশ ইমামের এমন বক্তব্যের পর নবনির্মিত অস্থায়ী শহিদ মিনার ভেঙে ফেলতে বাধ্য হয়েছে শিশু শিক্ষার্থীরা। হুজুরের নির্দেশে শহিদ মিনার ভাঙার এই ঘটনা শনিবার সকালে জানাজানি হলে ঐ এলাকায় সাধারণ জনগণের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে ঐ ইমামকে আটক করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের পূর্ব রাংতা গ্রামে।
গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা আকন এনামুল ইসলাম জানান, শুক্রবার পূর্ব রাংতা জামে মসজিদের পেশ ইমাম আবু ইউসুফ অর্ধশতাধিক মুসল্লির উপস্থিতিতে জুমার খুতবায় ওপরে উল্লিখিত মন্তব্য ছাড়াও বলেন, ‘শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করাও নাজায়েজ।’ দোয়া করলেও তা কোনো কাজে লাগে না বলে ফতোয়া দেন ঐ ইমাম। শুধু তাই নয়, খুতবার পরপরই তিনি শিক্ষার্থীদের কলাগাছ দিয়ে নির্মিত অস্থায়ী শহিদ মিনারটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, মসজিদের পাশে মহব্বত আলীর বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্থানীয় শিশুরা একটি অস্থায়ী শহিদ মিনার নির্মাণ করে। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ঐ হুজুরের মক্তবে পড়ুয়া শিক্ষার্থী তাওহিদ, রাকিব, ফয়সাল, নাঈম, রাব্বিসহ অনেকেই জানায়, শুক্রবার দুপুরে তারা শহিদ মিনারের সামনে উপস্থিত হলে সেখানে আসেন স্থানীয় মুরব্বি রজ্জব আলীর ছেলে হাজি মো. হাতেম আলী। তিনি হুজুরের মতামতের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের শহিদ মিনার ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দিলে শিক্ষার্থীরা মনে কষ্ট নিয়ে নিজেদের নির্মিত শহিদ মিনারটি ভেঙে ফেলে। শনিবার সকালে ঐ গ্রামের লোকজনের সামনে ঐ শিশুরা হুজুর আবু ইউসুফ ও হাজি মো. হাতেম আলীকে দেখিয়ে দিয়ে তাদের কথায় শহিদ মিনার ভেঙেছে বলে সাংবাদিকদের জানায়।
পরে স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য রিপন সরদার ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে নিজের দায়িত্বে শিশুদের জন্য অস্থায়ী শহিদ মিনার নির্মাণ করে দেবেন বলে ঘোষণা দেন। এমন ঘোষণায় শিশুদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি নূর মোহম্মদ আকন বলেন, বিষয়টি তিনি শনিবার সকালে শুনেছেন। কমিটির জরুরি সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সাপেক্ষ ব্যবস্থা নেবেন।
জানা গেছে, আবু ইউসুফ পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার রাঙ্গাবালী গ্রামের আক্কাস চৌধুরীর ছেলে। তিনি মাস দুয়েক আগে থেকে ঐ মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি চাঁদশী মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইমাম আবু ইউসুফ বিষয়টি স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় মুরুব্বি হাজি মো. হাতেম আলী তাকে শহিদ মিনারে ফুল দেওয়া ফেরানোর জন্য বললে তিনি শহিদ মিনারে ফুল দেওয়া বেদাত বলে শুক্রবার খুতবায় ফতোয়া দিয়েছিলেন।
এদিকে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. গোলাম ছরোয়ার জানান, তিনি শহিদ মিনার ভাঙার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসআইকে পাঠিয়েছেন। অভিযুক্ত ইমামকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেমের সরকারি ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
