ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক আব্বাসীর ত্রাসের রাজত্ব

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৩৭

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার ভাওরখোলা ইউনিয়নের শাহজাহান সরকারের ছেলে ফারুক সরকার আব্বাসী। এলাকার মানুষের কাছে তিনি এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। এক সময় তিনি ছিলেন ঢাকায় আন্ডারওয়ার্ল্ডের লোক। তিনি একাধিক খুনের মামলার আসামি। চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী খুনের পর তিনি পালিয়ে ঢাকা থেকে মেঘনায় চলে আসেন। সেখানে আত্মগোপনে থাকেন। তখন গোপনে ভাইদেরসহ অপরাধীচক্রের লোকজন নিয়ে বাহিনী তৈরি করে এলাকা নিয়ন্ত্রণের বিস্তর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনি কখনো বিএনপি, আবার কখনো আওয়ামী লীগ। প্রথমে বিএনপি থেকে এবং পরে দলবদল করে গত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে দ্বিতীয় বারের মতো চেয়ারম্যান হন ভাওরখোলা ইউনিয়ন পরিষদের। চলেন লাইসেন্স করা দুইটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে। তার ইচ্ছায় চলে সব কিছু। তার চাওয়ার বিরুদ্ধে বাধা দিলে পরিণতি হয় ভয়াবহ। পূর্ব বিরোধের জের ধরে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি দলবল নিয়ে গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আতঙ্ক ছড়িয়ে হামলা চালান একই গ্রামের (ভাওরখোলা) আবদুস সালামের বাড়িতে। এ সময় তিনি ও তার লোকজন আবদুস সালাম ও তার স্ত্রী নাজমা বেগমসহ তিন জনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। এ ঘটনায় সালামের স্ত্রী মারা যান। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ফারুক আব্বাসী ও তার ভাইসহ তিন জনের ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর থেকে ফারুক আব্বাসীসহ জড়িতরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। মেঘনা থানা পুলিশ ও এলাকার ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

মেঘনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম জানান, ‘২০০৯ সালে মেঘনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তাকে গুলি করেন ফারুক আব্বাসী। ঐ গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ভাওরখোলা গ্রামের আবদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির গায়ে লাগে। তিনি এখন পঙ্গু হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। সে একাধিক খুনের মামলার আসামি। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

তবে তার বিরুদ্ধে এলাকার কেউ ভয়ে কথা বলতে চান না। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার আসামি ফারুক আব্বাসী। তিনি এক সময়ে ঢাকা শহরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। নিহত নাজমা বেগমের দেবর অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ফারুক আব্বাসীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। তারপর থেকে ফারুক আব্বাসী পলাতক রয়েছেন। মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

মেঘনা থানার ওসি আবদুল মজিদ জানান, নাজমা বেগম হত্যাকাণ্ডের পর শুক্রবার রাতে ভাওরখোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক আব্বাসী ও তার ভাই খোকন আব্বাসী, ইমরান হোসেন টিটু, ইয়ার আব্বাসীদের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে বাঁশসহ ১০৬টি ও বাঁশ ছাড়া ৬৭টি কান্তা, ১৬টি ছোড়া, চারটি ধামা, ছয়টি চাইনিজ চাপাতি, দুইটি কুড়াল, ১২টি টেটা ও দুইটি রড উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের দেবর সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ইউপি চেয়ারম্যান ও তার লোকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছে। এ ছাড়া পুলিশ বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে আরো একটি অস্ত্র মামলা দায়ের করেছে।