গল্পকথায় পদার্থবিজ্ঞান

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২০:২৮

 

 

নক্ষত্রের জন্ম-মৃত্যু, ব্ল্যাকহোল

মাধব রায়, গল্পকার-প্রাবন্ধিক

সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)

ব্লু বার্ড হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিলেট

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

গতকালের পর

হ্যাঁ, শেষ হয়ে গেলে নক্ষত্রের মূলবস্তু সংকুচিত হতে থাকে। কিন্তু বহিঃস্থ অংশ তখনও প্রসারিত হতে থাকে। ফলে এর তাপমাত্রা কমতে থাকে। এই ধাপকে বলা হয় দানব নক্ষত্র (Giant Star)। তখন এই সব তারকাদের ব্যাস সূর্যের ব্যাসের ৫০ থেকে ২২০ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

রেখা বলল-আমাদের সূর্যও কি এরকম হবে?

নীলকান্তবাবু বললেন-হ্যাঁ, এখন থেকে আরও ৫০০ কোটি বছর পর আমাদের সূর্যও এই অবস্থায় পৌঁছাবে।

কণিকা বলল- তখন আমরা কী করব?

তখন সূর্য বাড়তে বাড়তে বুধ, শুক্র, পৃথিবী এমনকি মঙ্গলকেও গ্রাস করে ফেলতে পারে। পৃথিবীর অস্তিত্ব তখন সূর্যে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

আঁঁতকে উঠলো সবাই। তখন উপায়! বলল সীমা।

অণু বলল-এ অবস্থা কতদিন থাকতে পারে?

নীলকান্তবাবু বললেন-প্রায় দশলক্ষ বছর। এরপর এই দানব নক্ষত্র শীতল হতে থাকবে এবং সংকুচিত হতে থাকবে।

এরপর কী হবে? বলল আকাশ।

এরপর বিভিন্ন অবস্থায় বিভিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে। যেমন ধরো, নক্ষত্রটির ভর যদি ১.৪ সৌরভরের চেয়ে কম হয় তখন সেটি শ্বেত বামন নক্ষত্র (White Dwarf star) হবে এবং আস্তে আস্তে তাপীয় শক্তি বিকিরণ করে কালো বামন নক্ষত্র (Black Dwarf Star) হয়ে যাবে। তখন তার জীবনচক্র সমাপ্ত হয়ে যাবে।

মানে নক্ষত্র কি মরে যাবে? প্রশ্ন করল কণিকা।

হ্যাঁ, নক্ষত্রটির মৃত্যু ঘটবে-বললেন নীলকান্তবাবু। এ অবস্থায় জ্বালানি শেষ হয়ে যাবে এবং সংকোচন তীব্র হবে। মূল অংশের ঘনত্বও অনেকখানি বেড়ে গিয়ে প্রচণ্ড বিষ্ফোরণ ঘটে মৃত্যুবরণ করবে। এই প্রচণ্ড বিষ্ফোরণকে বলা হয় সুপারনোভা। ১০৫৪ খ্রিস্টাব্দে চিন দেশের জ্যোতির্বিদগণ এ ধরনের সুপারনোভা প্রত্যক্ষ করেন, যা বেশ কয়েকদিন দিনের আলোতেও প্রজ্জ্বলিত অবস্থায় দেখা গেছে।

সীমা বলল-কিন্তু যদি নক্ষত্রের ভর ১.৪ সৌরভরের চেয়ে বেশি হয়, তখন মরবে না?

নীলকান্তবাবু বললেন-হ্যাঁ, যদি ১.৪ সৌরভরের চেয়ে বেশি হয়, তখন এটি শ্বেত বামন নক্ষত্র হিসেবে স্থায়িত্ব লাভ করতে পারবে না। তখন এটি নিউট্রন নক্ষত্র অথবা কৃষ্ণগহ্বরে পরিণত হবে।

ব­্যাকহোল? বলল আকাশ।

হ্যাঁ, ব­্যাকহোল। বাংলায় একে বলি কৃষ্ণগহ্বর বা কৃষ্ণবিবর। ১৯৩০সালে ভারতীয় জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী চন্দ্রশেখর সুব্রাহ্মণিয়ম কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান ও আপেক্ষিক তত্ত্ব ব্যবহার করে সৌরভরের এই সীমা নির্ণয় করেন বলে একে চন্দ্রশেখর সীমা বলা হয়। এই আবিষ্কারের জন্য ১৯৮৩ সালে উইলিয়াম ফাউলার ও চন্দ্রশেখরকে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়।

ভেরিগুড-বললেন কমলা, কিন্তু 1.4 সৌরভরের চেয়ে বেশি হলে কী ঘটবে তা তো বললে না।

বলছি, নক্ষত্রের ভর ১.৫ থেকে ৩ সৌর ভরের মধ্যে হলে মূলবস্তুর চাপ এত বেশি হবে যে, প্রোটন ও ইলেকট্রন একত্রিত হয়ে নিউট্রন গঠন করে ফেলবে এবং তখন একে নিউট্রন নক্ষত্র (Neutron Star) বলা হবে।

নিউট্রন নক্ষত্রের কৌণিক বেগ অনেক বেড়ে যায় এবং আমরা পৃথিবী থেকে এক ধরনের বিকিরণ বেতার পালস হিসেবে শনাক্ত করতে পারি। এর জন্য এদেরকে আমরা পালসার বলতে পারি।

পালসার, মোটরসাইকেল? অণু অবাক হয়ে প্রশ্ন করল।

না, না, মোটরসাইকেল নয়, পালসার নক্ষত্র।

                                     

 

                  পরের অংশ আগামীকাল