২২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব স্কাউট দিবস। স্কাউট শব্দটি দ্বারা সাধারণত উদার, ভাগ্যবান, আনন্দদায়ক বোঝানো হয়ে থাকে। অর্থাত্ এই সংস্থাটি আনন্দের মধ্য দিয়ে শিক্ষাদান করে থাকে। স্কাউটিং আন্দোলনের প্রবক্তা রবার্ট স্টিফেন্সন স্মিথ লড ব্যাডেন পাওয়েল ১৮৫৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মের অর্ধশতক পরে অর্থাত্ ১৯০৭ সালে স্কাউটিং আন্দোলনের শুরু করেন তিনি। তার জন্মতারিখ ২২ ফেব্রুয়ারিতে ‘বিশ্ব স্কাউট দিবস’ পালন করা হয়ে থাকে। জীবনের শৃঙ্খলাবোধ ফিরিয়ে আনতে স্কাউটিং যথেষ্ট সহায়ক। স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে একজন ছেলে অথবা মেয়ে নিজেকে একজন প্রকৃত অর্থে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম। ভারতীয় উপমহাদেশে স্কাউটিংয়ের সূত্রপাত ঘটে ইংরেজ শাসনামলে। বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে এর নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ‘বাংলাদেশ স্কাউট সমিতি’ গঠিত হয় এবং ঐ বছরই সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে। ‘বাংলাদেশ স্কাউট সমিতি’র পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে ১৯৭৮ সালে ‘বাংলাদেশ স্কাউট’ নাম ধারণ করে। সংগঠনটিতে নারীদের সদস্য হওয়ার নিয়ম ছিল না। ১৯৯৪ সালে স্কাউট নারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ বিশ্ব স্কাউট সংস্থা, WOSM (World Organisation of the Scout Movement) কর্তৃক ১০৫তম সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। আমাদের দেশে এর কার্যক্রম ব্যাপক পরিসরে চলমান। দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলের স্কুল-কলেজেই স্কাউট রয়েছে। অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ২০১৭ সালে স্কাউটের সদস্যসংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ দেখিয়ে ২০২১ সালে সামগ্রিকভাবে ২১ লাখ স্কাউট সদস্যের সংস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। বিভিন্ন বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে টিকাদান, ত্রাণ পৌঁছানো, পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে স্কাউট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। সদা প্রস্তুত স্কাউট সদস্যদের নানাবিধ কার্যক্রমের গুরুত্ব দেশে ও জাতি গঠনে অপরিসীম।
n লেখক : শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
