পাটের দামে রেকর্ড !

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:৪২

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

এশিয়ার অন্যতম বৃহত্ জুট মিল আদমজীর পর সম্প্রতি দেশের অন্য সরকারি জুট মিলগুলো লোকসানের দায়ে বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে পাটের দাম। গত মৌসুমে বাজারে পাট ওঠার শুরুতে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ বা ২ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে রাজশাহীর বাজারে সাড়ে ৫ হাজার টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হচ্ছে। পাটের এত বেশি দাম দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এদিকে পাটের বেশি দাম পাওয়ায় খুশি কৃষক ও ব্যবসায়ীরাও।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামসুল হক জানান, রাজশাহী জেলায় গত বছর পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৪ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু তা বেড়ে চাষাবাদ হয়েছিল ১৪ হাজার ৭৯৬ হেক্টর জমিতে। ২০১৯ সালে ১৩ হাজার ৮৪৬ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছিল। পাটের দাম এত বেশি এই প্রথম বলে জানান তিনি। তিনি আরো জানান, বিদেশে পলিথিন ও প্লাস্টিক জাতীয় পণ্য থেকে মানুষ ফিরে আসছে। তাদের মধ্যে পাটের তৈরি ব্যাগের চাহিদা বেশি। আমাদের দেশেও পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ হলে ঐতিহ্যবাহী ‘পাট’ তার সোনালি অতীত ফিরে পাবে এবং পাট চাষে কৃষকের আগ্রহ আরো বাড়বে।

রাজশাহীর স্থানীয় পাট ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান জানান, গত বছর এক মণ পাট বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। পরের দিকে দাম কিছুটা বেশি ছিল। পাট ওঠার শুরুর দিকে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ বা ২ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে। তারও পরে প্রতি সপ্তাহে ২০০-৩০০ টাকা করে বেড়েছে প্রতি মণে। এভাবে বাড়তে বাড়তে পাটের মণ এখন সাড়ে ৫ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে এখনো বলা যাচ্ছে না, পাটের দাম আরো বাড়বে কি না? কারণ বিশ্ববাজারে সুতার দাম বেড়েছে, তাই পাটের দাম বেড়েছে বলে বড় বড় আড়তদাররা জানিয়েছেন।

রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি গ্রামের পাটচাষি ইমরান আলী জানান, তিনি গত বছর সাত বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছিলেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছিল। প্রতি বছরের মতো দাম পাবেন না বলে ধরে নিয়েই প্রথম দিকে পাট বিক্রি করেছিলেন। তবে সেই তুলনায় এখন পাটের দাম ডাবলেরও বেশি। ভাবতে পারিনি পাটের এত দাম হবে এবার।

রাজশাহী রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সহকারী পরিচালক কাজী সাইদুর রহমান জানান, প্রতি বছরই পাট রপ্তানি বাড়ছে। এ কারণে পাটের দামও বাড়ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার ৫৮৫.৭৪ ডলার, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ৮৭৯. ৫৫ ডলার ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২ কোটি ৩৪ লাখ ৭ হাজার ৫২৮.১৫ ডলারের পাট রপ্তানি হয়েছে রাজশাহী থেকে। পাটের দাম বাড়ার পেছনে এটিও একটি কারণ বলে মনে করছেন এই কর্মকর্তা।