৩১ কোটি টাকা বকেয়া, গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন, শ্রমিক অসন্তোষ
হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী, সিলেট অফিস ও আবদুল আলিম, ছাতক সংবাদদাতা
দেশের প্রাচীনতম শিল্পকারখানা ছাতক সিমেন্ট কারখানা বড় সংকটে পড়েছে। সিলেট অঞ্চলে সরকারের একটি বড় শিল্প। এক দিকে সিমেন্ট উত্পাদনের প্রধান কাঁচামাল চুনাপাথরের সংকট। অন্যদিকে ৩১ কোটি টাকা বকেয়া অনাদায়ী থাকার দায়ে কারখানার গ্যাস-সংযোগ গত সোমবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। সূত্র জানায়, সিমেন্ট উত্পাদনের অন্যতম কাঁচামাল চুনাপাথর ভারত থেকে আমদানি করা হয়। তবে আমদানিকৃত চুনাপাথর দুই বছর ধরে অধিক মূল্যে বিক্রি করার ফলে বর্তমানে চুনাপাথর সংকটে পড়েছে এই কারখানাটি। ছাতক সিমেন্ট কারখানার মহাব্যবস্থাপক (উত্পাদন) অমল কৃষ্ণ বিশ্বাস জানান, চুনাপাথর স্বল্পতা ও পাম্পের কারিগরি সমস্যার কারণে কারখানায় উত্পাদন বন্ধ রয়েছে। শিগিগরই উত্পাদন শুরু হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কারখানার শত কর্মচারী উদ্বেগ-উত্কণ্ঠায় পড়েছেন। তারা বলেন, ১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কারখানাটি বিসিআইসির লাভজনক প্রতিষ্ঠানটি দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে বিনাস হয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকরা বেকার হয়ে যাওয়ার ভয়ে শঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ।
জালালাবাদ গ্যাস সূত্রে জানা যায়, ছাতক সিমেন্ট কারখানার কাছে বকেয়া গ্যাস বিল বাবদ প্রায় ৩১ কোটি টাকা পাওনা। বিল পরিশোধের জন্য সিমেন্ট কারখানা কর্তৃপক্ষকে লিখিত তাগিদ দিলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ বিল পরিশোধ করেনি। ফলে সোমবার গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। উত্পাদন বন্ধ ও গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন কারখানার আবাসিক গ্রাহকরা। শ্রমিকদের সাফ অভিযোগ:কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও দুর্নীতির কারণে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।
গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্নের তথ্য নিশ্চিত করে ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এফ এম বারী বলেন, বকেয়া বিল পরিশোধ করে দুই-এক দিনের মধ্যে গ্যাস-সংযোগ চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে। এক সপ্তাহ ধরে কারখানায় উত্পাদন বন্ধ থাকার বিষয়ে এফ এম বারী জানান, চুনাপাথর সংকটের কারণেই বর্তমানে কারখানায় উত্পাদন বন্ধ।
সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা বলেন, প্রাচীন এই কারখানাটি দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে কারখানাটি ধীরে ধীরে একটি লোকসানি প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়। একাধিক বার ব্যালেন্সিং মর্ডানাইজেশন রেনোভেশন অ্যান্ড এক্সপেনশনের (বিএমআরই) মাধ্যমে বিশাল অংকের টাকা ব্যয়ে কারখানার উত্পাদন সচল রাখা হয়। তারা জানান, গত এক বছর ধরে কারখানায় একটি কিলনের মাধ্যমে উত্পাদন সচল রাখা হয়। অন্য আরেকটি কিলন কয়েক বছর আগে থেকেই বিকল। তবে চালু থাকা কিলনটি প্রায়ই বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে উত্পাদন বন্ধ হয়ে পড়ে।
চুনাপাথর সংকটের কারণে এক সপ্তাহ ধরে ছাতক সিমেন্ট কারখানায় উত্পাদন বন্ধ থাকার ফলে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে সরকারকে। কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এফ এম বারী জানান, চুনাপাথর সংকটের কারণেই বর্তমানে কারখানায় উত্পাদন বন্ধ রয়েছে।
এদিকে কারখানায় উত্পাদন বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। বেকার হয়ে পড়েছেন কারখানার অস্থায়ী শতাধিক শ্রমিক। তারা বলেন, কারখানাটি বিসিআইসির লাভজনক প্রতিষ্ঠান ছিল। কিন্তু দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে কারখানাটি ধীরে ধীরে একটি লোকসানি প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়। একজন শ্রমিক জানান, প্রায় দেড় বছর পূর্বে সরকারি অনুদানের ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে কিলনটি সংস্কার করা হয়। ক্যাথওয়েল কন্সট্রাকশন এ কাজটি করেছে। একটি সিন্ডিকেট এ কন্সট্রাকশনের নামে পুরোনো কিলন ঘষামজা করেই বরাদ্দের টাকাগুলো হাতিয়ে নেয়। তখন থেকেই কারখানায় উত্পাদন কার্যক্রম চলছে জোড়াতালি দিয়ে।
সূত্র জানায়, এদিকে কারখানাটি ওয়েট প্রসেস থেকে ড্রাই প্রসেসে রূপান্তরের কাজ চলমান রয়েছে। কারখানার উত্পাদন প্রক্রিয়া চলমান রেখেই প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও ওয়েট প্রসেসের কারখানাটি প্রতি মাসে তিন-চার বার কারখানার উত্পাদন বন্ধ থাকে। নতুন প্রজেক্টের কার্যক্রমেও রয়েছে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ।
