‘শহিদ দিবসের তাত্পর্য’ বিষয়ক সভা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
নতুন প্রজন্মের কাছে শুদ্ধভাবে মাতৃভাষা বলার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেছেন, নতুন প্রজন্মকে শুদ্ধভাবে বাংলা চর্চা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ও উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে নতুন প্রজন্মই মূল ভূমিকা রাখবে। নতুন প্রজন্মকে বুঝতে হবে একুশ মানে মাথা নত করা নয়। একুশ মানে চেতনা; একুশ মানে অনুপ্রেরণা। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং অসাম্প্রদায়িক ভাবনায় বেড়ে উঠতে হবে।
গতকাল রবিবার একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আয়োজিত ‘শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাত্পর্য’ বিষয়ক আলোচনাসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান লাকী ইনামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কাজী রওশন আক্তার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিশু একাডেমির মহাপরিচালক জ্যোতি লাল কুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা বলেন, শহিদ দিবস ও মাতৃভাষা দিবস বিশ্বের ১৯২টি দেশ মর্যাদার সঙ্গে পালন করছে। তিনি বলেন, দেশ বিভাগের পর থেকেই বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন পাকিস্তানি শাসকেরা বাঙালির বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হলেও আবার নতুন শোষণের কবলে পড়েছে দেশ। তিনি ১৯৪৭ সালেই বাংলা ভাষাকে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের লেখা ও আইন-আদালতের ভাষা করার দাবি করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা আন্দোলনের মূল সংগঠক। ১৯৪৮ সালে বাংলা ভাষার পক্ষে যে লিফলেট বিতরণ করা হয়, সেখানে বঙ্গবন্ধু ছিলেন অন্যতম স্বাক্ষরকারী। তিনি ভাষার দাবিতে আন্দোলন করে দুইবার গ্রেফতার হন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভাষা আন্দোলনে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ছাত্রীরা রাজপথে মিছিল করেছিল।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র সচিব কাজী রওশন আক্তার বলেন, মাতৃভাষার আন্দোলন যে কত গভীর তা দিনে দিনে বুঝেছি। তিনি নতুন প্রজন্মের শিশুদের কাছে শুদ্ধভাবে মাতৃভাষা বলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ঢাকা কেন্দ্র, জেলা ও উপজেলা কার্যালয়ের শিশুদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠান শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
