কর্ণফুলীতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে পারাপার, বাড়ছে নৌ-দুর্ঘটনা

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:২৮

কর্ণফুলী নদীতে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পারাপার চলছে। ইঞ্জিনচালিত নৌযানগুলো ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নদী পারাপার করছে। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি নৌযান ১০ জন করে যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। কিন্তু  নৌযানগুলো দ্বিগুণ যাত্রী নিয়ে নদী পারাপারের কারণে নিত্য দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের তদারকি না থাকায় এ ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কর্ণফুলী নদীতে আগে থেকে যাত্রী পারাপারের ১৫টি ঘাট ছিল। এখন আরো দুটি ঘাট বাড়ানো হয়েছে। এসব ঘাট দিয়ে প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত যাত্রী পারাপার করা হয়। নদীর দুই পাশে সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। রয়েছে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবীসহ নানা পেশার মানুষ যাতায়াত করে থাকেন। অনেক কর্মজীবী কম সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছতে নৌযানে করে কর্ণফুলী নদী দিয়ে দৈনিক যাতায়াত করে থাকেন। ফলে প্রতিদিনই নৌযানে করে যাত্রী পারাপার বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা সুলতানা ইত্তেফাককে বলেন, ‘নৌযানগুলো অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করছে কিনা দেখা হয়। আমরা যতক্ষণ থাকি ততক্ষণ নিয়ম মেনে যাত্রী পরিবহন হয়। পরে আবার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের অভিযোগ আসে। তবে এক্ষেত্রে যাত্রীদের সচেতন হতে হবে।’

ঘাটগুলো ইজারা দিয়ে থাকে সিটি করপোরেশন। তবে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ের ভূমি পটিয়া, কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলার সঙ্গে যুক্ত থাকায় তারাও ইজারার টাকা পেয়ে থাকেন। ফলে যাত্রী পারাপার তদারকি ও ঘাটের উন্নয়নের দায়িত্ব চার প্রশাসনের। একবার নদী পারাপারে ১৫ টাকা পরিশোধ করতে হয় যাত্রীদের। প্রতিটি নৌযান ১০ জনের বেশি যাত্রী পরিবহন করবে না—এমন বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ঘাটগুলোতে প্রশাসনের নোটিশও টাঙানো রয়েছে। কিন্তু এই বিধিনিষেধ যাত্রী ও নৌযান মাঝি কেউ তোয়াক্কা করছেন না। দ্রুত  যেতে ঠাসাঠাসি করে নদী পার হচ্ছে যাত্রীরা। এতে নৌযান ডুবে দুর্ঘটনা ঘটছে। হতাহত হচ্ছেন যাত্রীরা।

মাঝিরা জানান, কর্ণফুলী নদী খরস্রোতা। সোজাসুজি নৌযান চালানোয় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে অনেকে। এছাড়া নদীতে বিক্ষিপ্তভাবে অসংখ্য জাহাজ নোঙর করে থাকে। এসব জাহাজে ধাক্কা লেগেও দুর্ঘটনা ঘটছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের এস্টেট অফিসার মো. কামরুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘নিরাপদে যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা করা ইজারাদারের দায়িত্ব। এটি চুক্তিতে উল্লেখ আছে। ঘাটে সিঁড়ি নির্মাণ ও লাইট লাগানোর দায়িত্বও ইজারাদারের।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর উভয় পাশের ঘাটগুলো নৌযানে উঠানামার সময় ব্যবহার করছে যাত্রীরা। ভাটার সময় অনেক দূরে গিয়ে নৌযানে উঠতে হয়। কিন্তু ঘাটের অধিকাংশ সিঁড়ি ভাঙাচোরা। পর্যাপ্ত বিদ্যুতের লাইট নেই। এতে নৌযানে উঠানামার পথে নিত্য দুর্ঘটনা ঘটছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কর্ণফুলী নদীতে যাত্রী পারাপারে বিভিন্ন ঘাটে প্রায় ২ হাজার নৌযান রয়েছে। বংশানুক্রমে মাঝিরা যাত্রী পারাপারে নিয়োজিত রয়েছেন। বাংলাবাজার ঘাট সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতির সভাপতি এনামুল হক বলেন, ‘কিছু নৌযান অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করছে। নদী পারাপারে মাঝি ও যাত্রী সবাইকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।’

এ ব্যাপারে নৌপুলিশ সদরঘাট থানার এসআই আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করছে কি না তদারকি করি। কিছুদিন আগে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করায় কয়েক জন সাম্পান মাঝিকে এনে বেঁধে রেখেছিলাম। পরে তাদের সমিতির লোকজন এসে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে।’