অর্থের জন্য বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করা যাচ্ছে না ----------পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:২৯

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, নিজস্ব অর্থায়নের শর্তের কারণে বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার প্রক্রিয়া থমকে আছে। গতকাল রবিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, টাকার জন্য এই প্রক্রিয়া আটকে আছে। আমরা টাকা দেওয়ার অঙ্গীকার করতে পারিনি। তিনি বলেন, প্রাথমিক আলোচনায় প্রতি বছর ৬০ কোটি ডলার (৫ হাজার কোটি টাকা) দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

ড. মোমেন বলেন, ভাষা ব্যবহারকারীর দিক থেকে বাংলা পঞ্চম বৃহত্তম ভাষা। বাংলাকে দাপ্তরিক ভাষা করার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের কোনো আপত্তি নেই। প্রথম পাঁচটি দাপ্তরিক ভাষা হয়েছিল জাতিসংঘ যখন সৃষ্টি হয়, পরবর্তী সময়ে একটি নতুন ভাষা হয়েছে সেটি আরবি। এরপর প্রায় ১৯ বছর আরবি ভাষাভাষী দেশগুলো এর খরচ বহন করেছে। জাতিসংঘ সব সময় খরচ নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন থাকে।

তিনি বলেন, জাপানি, হিন্দি ও জার্মান ভাষার জন্যও প্রস্তাব করা হয়েছিল। একই কারণে সেগুলোও দাপ্তরিক ভাষা হয়নি। জাতিসংঘে বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে কিছু সাফল্য পাওয়ার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন একটা বাংলা রেডিও পেয়েছি, প্রত্যেক সপ্তাহে অনুষ্ঠান করে। এশিয়ার ওপর ইউএনডিপির যে রিপোর্টটা হয়, সেটা তারা ইংরেজির সঙ্গে বাংলাও করে, তাদের খরচে।

ঢাকায় বিভিন্ন বিদেশি মিশনের কর্মকর্তাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফরেন সার্ভিস একাডেমি প্রাঙ্গণে তৈরি অস্থায়ী শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কূটনীতিকরা। আলোচনায় অন্যদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, একাডেমির রেক্টর মাসুদ মাহমুদ খন্দকার বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিভিন্ন ভাষাভাষি বিদেশি কূটনীতিকদের জরুরি প্রয়োজনীয় কিছু বাংলা বাক্য শেখানো হয়।