মেঘনায় গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা

ইউপি চেয়ারম্যান ফারুকসহ আসামিদের খুঁজছে পুলিশ

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:২৯

মেঘনা উপজেলার ভাওরখোলা ইউনিয়নের ভাওরখোলা গ্রামের বাসিন্দা গৃহবধূ নাজমা বেগমকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ভাওরখোলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ফারুক সরকার আব্বাসী ও তার সহযোগীদের খুঁজছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে একাধিক মামলার আসামি পলাতক ঐ ইউপি চেয়ারম্যানসহ মামলার আসামিদের গ্রেফতারে থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম পৃথক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। রবিবার বিকালে পুলিশের একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মামলার এজাহার ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বিরোধের জের ধরে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ভাওরখোলা ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক সরকার আব্বাসী ও তার ভাইদের নেতৃত্বে তাদের লোকজন গুলি ছুড়তে ছুড়তে ভাওরখোলা গ্রামের আবদুস সালামের বাড়িতে ফিল্মি স্টাইলে হামলা চালায়। এ সময় চেয়ারম্যান ও তার লোকজন আবদুস সালাম ও তার স্ত্রী নাজমা বেগমসহ তিন জনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। সালামের স্ত্রী পরে মারা যান। এরপর ফারুক আব্বাসীসহ হামলায় জড়িতরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ফারুক আব্বাসীসহ তিন জনের ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। রবিবার রাতে নিহতের দেবর সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক আব্বাসীকে ১ নম্বর আসামি করে ও তার ভাই খোকন আব্বাসী, ইয়ার আব্বাসী, ইমরান হোসেন টিটুসহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে মেঘনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে আরো একটি অস্ত্র মামলা দায়ের করে।

মামলার বাদী সিরাজুল ইসলাম জানান, ‘চেয়ারম্যান ফারুক আব্বাসী একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। সে অভিনেতা সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলার আসামি। এলাকায় সে সন্ত্রাসী বাহিনীর লিডার। তারা আমার ভাবিকে (নাজমা বেগম) কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমরা ঘাতকদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও ফাঁসি চাই।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভাওরখোলা গ্রামের অন্তত ১৮ জন নারী-পুরুষ ফারুক আব্বাসী ও তার লোকজনের নানান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সোমবার সন্ধ্যায় মেঘনা থানার ওসি আবদুল মজিদ জানান, ‘আসামিরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য পৃথক টিম মাঠে কাজ করছে। আশা করি শিগিগরই তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হব। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঐ গ্রামে পুলিশের টিম নিয়মিত টহল দিচ্ছে।’