এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৯:২২

 

বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ

 

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যে শব্দটি গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ক্ষোভ ও ঘৃণা ছড়িয়েছে সেটি হলো ‘রাজাকার’। এদেশে জন্ম নিয়েও যুদ্ধের সময় তারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীদের সহায়তা করেছিল। রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধাদের পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিতো এবং বিভিন্নভাবে অত্যাচার ও নির্যাতন করতো। এমনকি হত্যা করতো।

গ) উদ্দীপকের রাজাকারদের সাথে ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’  কবিতার বিভীষণ চরিত্রের সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।

‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় স্বদেশ এবং স্বজনদের প্রতি বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতার স্বরূপ ফুটে উঠেছে। তার এই বিশ্বাসঘাতকতা কোন বাইরের শত্রুর বিরুদ্ধে নয়, আপনজনরাই তার বিশ্বাসঘাতকতার কারণে বিপদাপন্ন হয়। নিজের পারমার্থিক কল্যাণের কথা ভেবে তিনি জ্ঞাতিত্ব, ভ্রাতৃত্ব সবকিছু ত্যাগ করে শত্রু রামের পক্ষাবলম্বন করেন এবং জাতির সর্বনাশ সাধনে শত্রুকে সহযোগিতা করেন।

উদ্দীপকে রাজাকাররা এদেশের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও দেশ ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।এমনকি পাকিস্তানি দোসরদের সাথে হাত মিলিয়ে তাদের নারকীয় হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করে। এক্ষেত্রে তাদের আচরণ ছিল জাগতিক স্বার্থকেন্দ্রিক। এদেশের হয়ে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে রাজাকাররা। ’বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় ও বিভীষণ চরিত্রের মধ্য দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় পাই। এ কবিতায় লঙ্কাপতি রাবণের ভাই হয়েও বিভীষণ তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। শুধু তাই নয় শত্রুদের সহযোগিতা করে নিজ ভ্রাতুষ্পুত্র মেঘনাদের জীবনকেও সংকটাপন্ন করে তোলে। অর্থাত্ আলোচ্য কবিতায় বিভীষণ এবং উদ্দীপকের  রাজাকার উভয়েই স্বার্থান্বেষী এবং বিশ্বাসঘাতক। এদিক থেকে তাদের চরিত্রের মিল পরিলক্ষিত হয়।          

 

                ঘ-এর উত্তর আগামীকাল