জাতিসংঘের পরমাণুবিষয়ক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএর (ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক এনার্জি এজেন্সি) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি বলেছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের সময়সীমা তিন মাস পর্যন্ত বাড়াতে সম্মত হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে, সীমিত আকারে এ পরিদর্শন করা যাবে। কিন্তু কোনো ঝটিকা সফরে যাওয়া যাবে না। খবর আলজাজিরার
রবিবার তেহরান থেকে ফিরে ভিয়েনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সংস্থাটির প্রধান বলেন, ইরানের সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে। তেহরান তাদের পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শনের সময়সীমা বাড়াতে রাজি হয়েছে। আমরা মনে করি, এটা অবশ্যই একটি ইতিবাচক দিক। এর যুক্তিসংগত একটা পর্যায় রয়েছে। এটি আপাতত বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ভালো ভূমিকা রাখবে। রাফায়েল গ্রোসি বলেন, সাময়িকভাবে আমরা দ্বিপাক্ষিক সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি। এর মাধ্যমে সামনে আমাদের কাজ চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে। আগামী তিন মাস পর্যন্ত এ সময়সীমা বাড়িয়েছে দেশটি। সে মোতাবেক আমরা আমাদের পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে পারব। এ ক্ষেত্রে এটি গ্রহণ, বর্জন, স্থগিত কিংবা সম্প্রসারণে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারব। তিনি বলেন, আইএইএ মনে করে, গোটা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তারা সক্ষম হবেন। এ নিয়ে অন্য কোনো রাজনৈতিক পরামর্শ থাকলে তাও তারা সাদরে গ্রহণ করবেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তি ত্যাগ করার পর যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ইরানের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেয়নি। এতে গত কয়েক বছরে ইরানের অর্থনীতিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে দেশটিতে পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শনের নীতিমালা পরিবর্তন হচ্ছে।
অবরোধের কারণে ইরানও চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে ২০১৯ সাল থেকে পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করে। এ বছরের শুরুর নাগাদ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হবে বলে ঘোষণা দেয় দেশটি। ইরান জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি ২০১৫ সালের চুক্তি পুরোপুরি মেনে না চলে, তাহলে তারাও পরমাণু কর্মসূচি পরিবর্তন করবে না। সম্প্রতি বাইডেন প্রশাসন ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শনের সময় বৃদ্ধির ফলে এই আলোচনার আয়োজনে আরো সময় পাওয়া যাবে।
