স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপোষ নেই: রেলমন্ত্রী

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:০৭

রেলমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপোষ নেই। ৭৫ এ ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর জিয়া স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রতিষ্ঠিত করে দেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠিত করেছে।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে পঞ্চগড় প্রেসক্লাব আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘জনগণের সঙ্গে সরকারের সংযোগ তৈরি করতে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর যে বিরাট দায়িত্ব দিয়েছে তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা করতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের কল্যাণে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। রাজনীতির নামে যারা মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতাকে বিতর্কিত করে তাদের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার থাকতে পারে না। রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকতে পারে প্রতিষ্ঠিত সত্যকে বিকৃত করা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ও লেখনীর মাধ্যমে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে সমস্যা সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরে সরকার পরিচালনায় সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।’

আরো পড়ুন: নিখিল ও আম্বিয়াসহ ৬ জনকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা

পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি সফিকুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. গোলাম আজম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট, পঞ্চগড় চেম্বারের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান খান বাবলা, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বাবু, সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম শহীদ, এস এ মাহমুদ সেলিম প্রমুখ।

এরআগে পঞ্চগড় রেল স্টেশন পরিদর্শনকালে এক সুধী সমাবেশে মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি তাদের শাসন আমলে বাংলাদেশ রেলওয়েকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল, সেই মৃত অবস্থা থেকে পুনর্জীবিত করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। গত দশ বছরে বাংলাদেশ রেলওয়েকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালে রেলওয়েকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা করে রেল মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘রেলের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্ধা স্থল বন্দর পর্যন্ত রেল যোগাযোগ সম্প্রসারিত হবে।  আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ৫০ টি নতুন কোচ আমদানি করা হবে। পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনকে আধুনিকায়ন করা হবে। যাত্রী পারাপারের জন্য ওভার ব্রিজ করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ঢাকা থেকে চিটাগাং রুটে হাইস্পিড ট্রেন চলাচলের কাজ শুরু হয়ে গেছে, প্রত্যেক জেলার সঙ্গে রেলের সংযোগ ঘটানো হবে, উত্তরবঙ্গের জন্য আলাদা রেল ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে, পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্ধা, চিলাহাটি থেকে হলদিবাড়ি হয়ে ভারতের সাথে রেল যোগাযোগের কাজ অচিরেই শুরু হবে। মায়ানমার হয়ে চীনের সাথে রেল যোগাযোগের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এসব কাজ জনগণের চাওয়ার আগেই সরকার উদ্যোগী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে রেল যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হবে। সরকার রেলওয়ে যোগাযোগকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেছে।’

ইত্তেফাক/বিএএফ