সেনা অভ্যুত্থানবিরোধীদের সাধারণ ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে মিয়ানমার। সেনাবাহিনীর হুমকি উপেক্ষা করেই গতকালও দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ব্রিটেন অং সান সু চির মুক্তি দাবি করেছে। খবর রয়টার্স ও বিবিসির
তিন সপ্তাহ আগে সেনাবাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা নিলেও বিক্ষোভ থামাতে পারেনি। প্রথমেই অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলন শুরু করেন চিকিত্সকরা। এরপর একে একে সরকারি চাকরিজীবীরা বিক্ষোভে শামিল হন। সেনা সরকার বিক্ষোভে যোগ দিলে বেতন কেটে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। কিন্তু তারপরও বিক্ষোভে অংশ নেওয়া থেকে থামানো যায়নি সরকারি কর্মচারীদের। চীন সীমান্ত এলাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন শহরে ও প্রত্যন্ত অঞ্চলেও গতকাল বিক্ষোভ দানা বাঁধে। প্রধান শহর ইয়াংগুনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কিওয়া কিওয়া বলেন, সরকার হয়তো আমার সামান্য কিছু অর্থ কেটে নেবে। কিন্তু এই সেনা সরকার থাকলে আমরা সারা জীবনের জন্য দাস হয়ে থাকব।
রাজধানী নাইপেদোতে সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ হয়। তবে সদর দপ্তরের কাছেই নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয়। তারা সেনা শাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় এবং নেত্রী অং সান সু চির মুক্তি দাবি করে। পুলিশ ওয়াটার ক্যানন নিয়ে সেখানে প্রস্তুত ছিল। গত শনিবার বিক্ষোভে গুলি চালায় পুলিশ। এতে দুই জন নিহত হয়। এছাড়া এক সপ্তাহ আগে বিক্ষোভে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত এক নারী শুক্রবার মারা যায়। তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বিক্ষোভে আহত এক পুলিশ সদস্য মারা গেছে। রবিবার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত মিডিয়া এমআরটিভি সতর্ক করে দেয় যে, বিক্ষোভে মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে সেনা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে দেওয়া বক্তব্যে মহাসচিব বলেন, মিয়ানমারে গণতন্ত্রকে ভূলুণ্ঠিত করা হচ্ছে। নিষ্ঠুর আচরণ করা হচ্ছে। নির্বিচারে গ্রেফতার চলছে। সুশীল সমাজের ওপরও আক্রমণ চলছে। এসব বন্ধ করতে হবে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন মিয়ানমারের সামরিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জোরালো ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। রবিবার রাতে টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে নিজ দেশের এমন অঙ্গীকারের কথা জানান অ্যান্টনি ব্লিনকেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে পুনর্বহালের দাবি করায় যারা বার্মার মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে। আমরা বার্মার জনগণের পাশে আছি। ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোমিনিক রাব অং সান সু চিকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
