খুলনার শিশু রাকিব হত্যা

লিভ টু আপিল খারিজ দুই আসামির যাবজ্জীবন দণ্ড বহাল

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৫২

খুলনায় পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে শিশু রাকিব হত্যা মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন সাজা বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। দণ্ডিত দুই আসামি হলেন, ওমর শরীফ ও মিন্টু খান। তাদের করা লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া সাজা বহাল রাখেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন বিচারপতির বেঞ্চ। আপিল বিভাগের এই রায়ের মধ্য দিয়ে মাত্র ছয় বছরে নৃশংস ও জঘন্য এই হত্যাকাণ্ডের বিচারে চূড়ান্ত রায় এলো।

রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, যারা শিশু হত্যা করেন তাদের জন্য এই রায় একটি বার্তা। কারণ যারাই এ ধরনের অপরাধ করবেন তাদের শাস্তি অনিবার্য। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত্ দেবনাথ বলেন, আপিলের অনুমতি চেয়ে আসামিদের করা লিভ টু আপিল অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। এর ফলে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করতে হবে আসামিদের।

আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, হত্যাকাণ্ডের ছয় বছরের মধ্যে মামলার বিচারের তিনটি ধাপ সম্পন্ন হওয়া এক বড় ধরনের সফলতা। এই রায় বিচারপ্রার্থী জনগণের মধ্যে আশার সঞ্চার করবে।

২০১৫ সালের ৩ আগস্ট খুলনা শহরের টুটপাড়ায় একটি মোটর গ্যারেজে কমপ্রেশার মেশিন দিয়ে পায়ুপথে  বাতাস প্রবেশ করালে ঐ গ্যারেজের শ্রমিক রাকিব হাওলাদারের (১২) মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তখন দেশ জুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে দায়েরকৃত হত্যা মামলায় ঐ ওয়ার্কশপের মালিক ওমর শরীফ ও তার সহযোগী মিন্টু খান এবং শরীফের মা বিউটি বেগমকে আসামি করা হয়। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। এই মামলায় খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক দিলরুবা সুলতানা ঐ বছরের ৮ নভেম্বর শরীফ ও মিন্টুকে মৃত্যুদণ্ড দেন। খালাস দেওয়া হয় বিউটি বেগমকে।

ঐ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামিরা। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে। পরে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয় মামলার পেপারবুক। ২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স বেঞ্চ আসামিদের আপিল আংশিক মঞ্জুর করে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন সাজা দেন। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন আসামিরা। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ আসামিদের আবেদন খারিজ করে দেয়। আসামিদের পক্ষে মুশফিকউদ্দিন বখতিয়ার শুনানি করেন।