একটি মানুষও ঠিকানাহীন থাকবে না :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২৩:০৩

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘স্বাধীনতার সুফল আমরা প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেব। দেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, প্রত্যেক মানুষের জীবনকে উন্নত ও অর্থবহ করব—একটি মানুষও ঠিকানাহীন থাকবে না, প্রত্যেকের ঘরে আলো জ্বালব—এটাই হচ্ছে আমাদের অঙ্গীকার।’ গতকাল সোমবার বিকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহান      শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনাসভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সভাপতির বক্তৃৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করা আমাদের দায়িত্ব। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মাতৃভাষা আন্দোলনের পথ বেয়েই লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। দেশের প্রতিটি অর্জনেই বাঙালি জাতিকে সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ করতে হয়েছে। কিন্তু শহিদের রক্ত কখনো বৃথা যায় না, যেতে পারে না। আমরা তা হতে দেব না।’ প্রধানমন্ত্রী মাতৃভাষার আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা অর্জন এবং স্বাধীনতাপরবর্তী মাত্র সাড়ে তিন বছরে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের বিস্তারিত তথ্য অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা স্পেশাল ব্রাঞ্চের লেখা রিপোর্ট নিয়ে প্রকাশিত মহামূল্যবান গ্রন্থগুলো সবাইকে পড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা বঙ্গবন্ধুর পক্ষে নয়, বিরুদ্ধে লেখা সব রিপোর্ট। পৃথিবীর কোনো দেশের কোনো নেতার বিরুদ্ধে ৪৬টি ফাইলে প্রায় ৪৬ হাজার পৃষ্ঠাব্যাপী কোনো রিপোর্ট লেখার ইতিহাস কোথাও নেই। আর এই রিপোর্টেই মাতৃভাষার জন্য বঙ্গবন্ধু কী কী করেছিলেন, কীভাবে ভাষা-সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তুলেছিলেন, আর এই সংগ্রাম করতে গিয়ে বারবার গ্রেফতার হন—এসব রিপোর্ট থেকেই সত্য ইতিহাসের মহামূল্যবান তথ্য সবাই জানতে পারবেন। ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস জানতে হলে এসব রিপোর্ট পড়লেই সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। আর যারা ভাষা নিয়ে গবেষণা করছেন তাদেরও এই রিপোর্টগুলো অনেক সহায়ক হবে।

দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রান্তে প্রারম্ভিব বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আরো বক্তব্য রাখেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী ও উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান। গণভবন প্রান্ত থেকে আলোচনাসভা পরিচালনা করেন দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভাষাশহিদ থেকে শুরু করে একাত্তর ও ১৫ আগস্টের সব শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলমান মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এ দুটি ঐতিহাসিক দিবস উপলক্ষ্যে আমরা ব্যাপক কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিলেও করোনার কারণে তা পালন করতে পারছি না। তবে আমরা এ দুটি দিবসকে সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশের একটি মানুষও গৃহহীন, ভূমিহীন বা ঠিকানাহীন থাকবে না। সবার জন্য আমরা একটি ঠিকানা করে দেব, ঘর নির্মাণ করে দেব। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি মানুষের ঘরে আলো জ্বালব, বিদ্যুত্ পৌঁছে দেব। জাতির পিতার নেতৃত্বে লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এই স্বাধীনতার সুফল আমরা প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেব, তাদের জীবনকে আরো উন্নত-অর্থবহ করে গড়ে তুলব। শহিদের রক্তকে আমরা বৃথা যেতে দেব না।’

খুব শিগিগরই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তবে আমাদের ভাষার মর্যাদা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। শুধু দেশের নয়, সারা বিশ্বের ছোট-বড় সব দেশের মাতৃভাষার সংরক্ষণ, গবেষণার জন্য আমরা মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছি। অথচ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে তা বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর নির্মাণ কাজ শেষ করি এবং সেখানে ভাষা জাদুঘরও নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে বিশ্বের অসংখ্য দেশের মাতৃভাষা সংরক্ষণ করেছি, এবার থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদকও দিতে শুরু করেছি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি পাওয়ার পর আমাদের দায়িত্বও অনেক বেড়ে গিয়েছে ছোট-বড় সবার মাতৃভাষা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা। এটা আমরা করে যাচ্ছি, যা বিশ্বের মধ্যে একটি দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছে।’