ইনভয়েস জালিয়াতি করে ৬৪ হাজার কোটি টাকা পাচার! অনুসন্ধানে দুদক

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:২৪

কিছু সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সহযোগিতায় আমদানি ও রপ্তানির আড়ালে ইনভয়েস জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে বছরে ৬৪ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে দেশের কতিপয় তৈরি পোশাকশিল্পের মালিক। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এরই মধ্যে এ অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে। একই সঙ্গে বিষয়টি অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কমিশন। গতকাল সোমবার দুপুরে দুদক প্রধান কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলনে দুদকের সচিব ড. মু আনোয়ার হোসেন হাওলাদার এসব তথ্য জানিয়েছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইউ) আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে ৬৪ হাজার কোটি টাকা পাচারের বিষয়টি শনাক্ত করে। পরবর্তী সময় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সন্দেহভাজন মালিকদের একটি তালিকা দুদকে পাঠায় সংস্থাটি। এ প্রেক্ষিতে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। এদের মধ্যে আল মুসলিম গ্রুপের বিরুদ্ধে টাকা পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়েছে দুদক।

গতকাল দুদক সচিব বলেছেন, দেশের কতিপয় গার্মেন্টস মালিকদের বিরুদ্ধে কিছু সরকারি কর্মচারীদের সহযোগিতায় অবৈধ সম্পদ অর্জনপূর্বক আমদানি ও রপ্তানির আড়ালে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে ৬৪ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে আল মুসলিম গ্রুপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে রপ্তানির আড়ালে ১৭৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে দুদক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে দুদকের একটি অনুসন্ধান টিম অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অনুসন্ধান টিম প্রতিবেদন দাখিল করলে তা পর্যালোচনা করে কমিশন আইন মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তিনি আরো জানান, দুদকের উপ-পরিচালক বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের টিম বিষয়টি অনুসন্ধান করছে। সহকারী পরিচালক আতাউল কবির এবং বজলুর রশিদ টিমের অন্য দুই সদস্য। এরই মধ্যে তদন্ত কমিটি এনবিআর এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিয়ে ‘সন্দেহভাজন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি মালিক’দের তথ্য চেয়েছে। এসব বিষয়ে এনবিআর আমাদের সহযোগিতা করছে। আমরা এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট থেকেও তথ্য নিয়ে এ বিষয়ে কাজ করছি।

দুদক সচিব বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের চাহিদার ভিত্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ওভার ইনভয়েসিং সংক্রান্ত কিছু তথ্য পাঠায়, যার ভিত্তিতে দুদক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে। বর্তমানে উক্ত টিম অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অনুসন্ধানের বিষয়বস্তু ব্যাপক হওয়ায় এ বিষয়ে অনুসন্ধান সম্পন্ন করতে সময়ের প্রয়োজন। দুদক তার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর থেকে তথ্য পেতে শুরু করেছে। সচিব আরো বলেন, বিদেশ থেকে আমদানি করা কম দামের পণ্য ওভার ইনভয়েসের মাধ্যমে বেশি দাম দেখিয়ে অর্থ পাচারের ঘটনা অনুসন্ধান করতে চার সদস্যের আরো একটি কমিটি গঠন করেছে দুদক।