ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড এবং ডেটা ট্রান্সমিশন মোড আলোচনা
মিহির রঞ্জন তালুকদার, প্রভাষক
বালাগঞ্জ সরকারি কলেজ, সিলেট
সুপ্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ:তোমরা নিশ্চয়ই ভালো আছ। দীর্ঘদিন যাবত্ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তোমাদের পড়াশোনার যাতে ক্ষতি না হয় সে জন্যই আমাদের প্রচেষ্টা। আশা করি নিয়মিত অনুশীলন করলে তোমরা উপকৃত হবে। তোমাদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে কোনো প্রশ্ন বা সমস্যা থাকলে ই-মেইল
([email protected] অথবা [email protected]) করতে পারো। সমাধান করার চেষ্টা করবো। বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় আজ দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে থাকছে ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড এবং ডেটা ট্রান্সমিশন মোড নিয়ে আলোচনা; তোমাদের উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় প্রায়শই দেখা যায় যে, ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড থেকে প্রশ্ন করা হলে ডেটা ট্রান্সমিশন মোড লিখে ফেলো। ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড এবং ডেটা ট্রান্সমিশন মোড দুটো ভিন্ন জিনিস। একটু মনোযোগ সহকারে পড়লেই আশা করি তোমাদের কনফিউশন দূর হয়ে যাবে।
ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড এবং মোড: এক মোবাইল/ ডিভাইস থেকে অন্য মোবাইল/ ডিভাইসে যে পদ্ধতিতে ডেটা স্থানান্তরিত হয় তাকে ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড বলে। আর ডেটা শুধু স্থানান্তরিত হবে নাকি আবার আসবে অর্থাত্ ডেটার স্থানান্তর একমুখী হবে নাকি দ্বিমুখী হবে এই ডেটা প্রবাহের দিককেই বলা হয় ডেটা ট্রান্সমিশন মোড।
ডেটা ট্রান্সমিশন মেথডের প্রকারভেদ: ডেটা ট্রান্সমিশন মেথডকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায় যথা:
প্যারালাল ডেটা ট্রান্সমিশন ( Parallel Data Transmission) এবং সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশন (Serial Data Transmission) ।
সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশনকে আবার তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে-
ক. এসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন
খ. সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন এবং
গ. আইসোক্রোনাস ট্রান্সমিশন।
১. প্যারালাল ডেটা ট্রান্সমিশন: সবগুলো বিট একই সাথে সমান্তরালে ভিন্ন ভিন্ন লাইনে স্থানান্তরিত হওয়াকে প্যারালাল ডেটা ট্রান্সমিশন বলে। ভিন্ন ভিন্ন লাইনে স্থানান্তরিত হওয়াতে এটি দ্রুত গতি সম্পন্ন। সাধারণত স্বল্প দূরত্বে (যেমন-কী বোর্ড) এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। একই সময়ে n বিট ডেটা ট্রান্সমিশনের জন্য n টি পৃথক মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
২. সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশন: একই মাধ্যম/ক্যাবলের মধ্যে দিয়ে ধারাবাহিকভাবে ১ বিট ১ বিট করে ডেটা স্থানান্তরের পদ্ধতিকে সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশন বলে।
১টি মাধ্যম/ক্যাবল হওয়ার কারণে কম খরচে দূরবর্তী স্থানে ডেটা স্থানান্তর সম্ভব। ধারাবাহিকভাবে ১ বিট ১ বিট করে ডেটা স্থানান্তরের ফলে এটি ধীরগতি সম্পন্ন হয়।
(বি:দ্র: প্যারালাল ট্রান্সমিশন এবং সিরিয়াল ট্রান্সমিশনের পার্থক্য এখান থেকে সহজেই নোট করে রাখতে পারো)
ক. এসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন: যে ট্রান্সমিশনের ক্ষেত্রে ডেটা ক্যারেক্টার বাই ক্যারেক্টার স্থানান্তরিত হয় এবং ক্যারেক্টার একটার পর একটা স্থানান্তরিত হওয়ার সময়ের ব্যবধান সমান নয় তাকে এসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন বলে।
খ. সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন: যে ট্রান্সমিশনের ক্ষেত্রে ক্যারেক্টারগুলো সংরক্ষণ করে কমপক্ষে ৮০ থেকে ১৩২ টি ক্যারেক্টারের ব্লক/ প্যাকেট করে এবং প্রতিটি ব্লক/প্যাকেট সমান বিরতিতে স্থানান্তর করে তাকে সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন বলে। যেহেতু মধ্যকার বিরতি সমান এবং অনেকগুলো বিট প্যাকেট আকারে একসাথে স্থানান্তরিত হয় ফলে এটি এসিনক্রোনাসের তুলনায় দ্রুত গতিসম্পন্ন।
গ. আইসোক্রোনাস ট্রান্সমিশন: এটিও সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের মতো অনেকগুলো ক্যারেক্টার একত্রিত করে একটি ব্লক/প্যাকেট তৈরি করে ট্রান্সমিশন করে কিন্তু প্রতিটি ব্লক/প্যাকেট বিরতিহীনভাবে স্থানান্তরিত হয়। রিয়েল টাইম অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের জন্য এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
