সরকার কর্তৃক উপবৃত্তি প্রদানের ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে শিক্ষার্থী ভর্তির হার বৃদ্ধির পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া। এই অর্থ প্রতি অর্থবছরে চার কিস্তিতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মা/অভিভাবকদের হিসাবে জমা হয়। কিন্তু করোনায় বিদ্যালয় বন্ধকালীন গত অর্থবছরের (২০১৯-২০) সর্বশেষ কিস্তির (এপ্রিল২০২০-জুন২০২০) অর্থ বিতরণ করা হয়নি, যা এখন ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর মাধ্যমে দেওয়ার নতুন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ১৭ জানুয়ারির মধ্যে আবশ্যিকভাবে উপবৃত্তির অনলাইন পোর্টালে সরাসরি তথ্য দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ উপবৃত্তি নীতিমালায় কিছু পরিবর্তনসহ বাধ্যতামূলকভাবে শিক্ষার্থীদের জন্মনিবন্ধন সনদের নম্বর প্রদানের শর্ত আরোপ করে। কিন্তু সার্ভারের গতিহীনতাসহ নানা কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে জন্মনিবন্ধন সনদ প্রদানের গতি যেমন ধীর তেমনি কোথাও কোথাও ছিল পুরোপুরি বন্ধ। তাছাড়া প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকার জনসাধারণের অসচেতনতায় অনেক শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন সনদ নেই। অথচ এদের অধিকাংশই উপবৃত্তিপ্রাপ্তির অন্যান্য শর্ত পূরণ করে আগের কিস্তিগুলোর অর্থসুবিধা পেয়েছে। উল্লেখ্য, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিংহভাগ শিক্ষার্থী যেমন দরিদ্র পরিবারের, তেমনি করোনার ক্রান্তিকালে নতুন করেও অনেক অভিভাবকের নিয়মিত আয়ের পথ বন্ধ হয়েছে। ফলে শুধু জন্মনিবন্ধন সনদ না থাকার ব্যর্থতায় উপবৃত্তির শেষ কিস্তির সুবিধা বঞ্চিত হলে শিক্ষার্থীদের মনে বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হবে। ফলে নিশ্চিতভাবেই ব্যাহত হবে উপবৃত্তির মূল উদ্দেশ্য। তাই কর্তৃপক্ষ সমীপে এই কিস্তির অর্থপ্রাপ্তিতে বাধ্যতামূলকভাবে জন্মনিবন্ধন সনদ জমা দেওয়ার বিষয়টি পুনঃবিবেচনাপূর্বক শিথিল করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।
আবু ফারুক
বনরুপা পাড়া, সদর, বান্দরবান
