পিঠার নাম শুনলেই জিভে জল আসে না এমন বাঙালি পাওয়া যাবে না। পিঠা বাঙালির জীবন ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। যদিও শহুরে সংস্কৃতিতে পিঠার অবস্থান খুব নগণ্য। বিভিন্ন স্টলে বার্গার, পিত্জার জোয়ারে হারিয়েই গেছে পিঠা। কিন্তু তারপরও শীত এলেই পিঠার স্মৃতি মনের ভেতরে নাড়া দিয়ে যায় না এমন বাঙালি পাওয়া যাবে না। দাদির হাতের পিঠা খাওয়ার টানে শীতে গ্রামে যাওয়ার রেওয়াজ ছিল প্রায় প্রতিটি পরিবারে। গ্রামীণ নারীদের সেই নান্দনিক পরিবেশনা আমাদের সংস্কৃতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সেই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে শিল্পকলা একাডেমি ও জাতীয় পিঠা উত্সব পরিষদ যৌথভাবে এ উত্সবের আয়োজন করেছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকালে ঢাকের বাদ্যিতে বর্ণিল বেলুন আর শান্তির পায়রা উড়িয়ে ১০ দিনের এ উত্সবের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এ সময় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মঞ্চসারথি আতাউর রহমান, নৃত্যগুরু আমানুল হক। পিঠা উত্সব উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আয়োজনে বক্তব্য দেন পরিষদের সভাপতি ম. হামিদ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন শিল্পকলা একাডেমির সচিব নওসাদ হোসেন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন পিঠা উত্সব উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শাহ্ আলম।
উত্সবের উদ্বোধন করে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণসহ নানা কারণে এখন আর গ্রামে-গঞ্জে সেভাবে পিঠা উত্সব হয় না। সেই উত্সবটি এখন শহরের চার দেওয়ালের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটা ভালো দিক। অন্তত এই উত্সবের কারণে আমরা আমাদের গ্রামের সেই পিঠাপুলির ঘ্রাণ নিতে পারছি, স্বাদ নিতে পারছি।
এবারের উত্সবে প্রায় ৫০টি স্টলে প্রায় ২০০ পদের পিঠা নিয়ে হাজির হয়েছেন দেশের বিভিন্ন জেলার পিঠাশিল্পীরা। যার মধ্যে ছিল—ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, ঝাল পিঠা, মালপোয়া, মেড়া পিঠা, মালাই পিঠা, মুঠি পিঠা, আন্দশা, কুলশি, কাটা পিঠা, কলা পিঠা, খেজুরের পিঠা, ক্ষীর কুলি, গোকুল পিঠা, গোলাপ ফুল পিঠা, লবঙ্গ লতিকা, রসফুল পিঠা, সুন্দরী পাকান, সরভাজা, পুলি পিঠা, পাতা পিঠা, পাটিসাপটা, পাকান পিঠা, নারকেলের সেদ্ধ পুলি, নারকেল জিলাপি, তেজপাতা পিঠা, তেলের পিঠা, তেলপোয়া পিঠা, চাঁদ পাকান পিঠা, ছিট পিঠা, পানতোয়া, জামদানি পিঠা, হাঁড়ি পিঠা, ঝালপোয়া পিঠা, ঝুরি পিঠা, ছাঁচ পিঠা, ছিটকা পিঠা, চিতই পিঠাসহ আরো বাহারি সব নামের পিঠা। আগামী ৩ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নানা রকমের বৈচিত্র্যময় স্বাদের এসব পিঠা ভোজন রসিকদের রসনায় জোগাবে ব্যতিক্রমী আনন্দ।
এদিকে, ১০ দিনব্যাপী এ পিঠা উত্সবে নানা রকমের বাহারি পিঠার সঙ্গে উত্সব আঙিনায় প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তারই অংশ হিসেবে উদ্বোধনী আয়োজন শেষে উত্সব মঞ্চে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা এ সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবারের এ পিঠা উত্সবে সহযোগিতা করছে স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কোম্পানি লিমিটেড।
