বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার
সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ কোটা পুনর্বহালসহ সাত দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে আন্দোলন করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ। গতকাল মঙ্গলবার শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে আন্দোলন শুরুর পর দুপুর ১২টায় শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। দীর্ঘ সময় শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের হামলায় বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
পুলিশের লাঠিচার্জ প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের ঢাকা বিভাগের আহ্বায়ক হালদার মামুন বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি করছিলাম। এর মধ্যেই বিনা উসকানিতে পুলিশ আমাদের ওপর হামলা চালায়, জলকামান ব্যবহার করে। এতে আমাদের বেশ কয়েক জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। একজনকে গাড়িতে তুলে নিয়েছে। আমার ওপর হামলা করেছে পুলিশ। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আগামীতে আমরা আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি মামুন অর রশীদ বলেন, ‘জনদুর্ভোগ ও হাসপাতালে আসা রোগীদের কথা বিবেচনা করে আমরা তাদের শাহবাগ মোড় ছেড়ে অন্যত্র যেতে বলেছি। কিন্তু তারা আমাদের অনুরোধ রাখেননি। পরে পুলিশ বাধ্য হয়ে তাদেরকে সেখান থেকে উঠিয়ে দিয়েছে।’
বেলা ১১টা থেকে শাহবাগ অবরোধ করে কর্মসূচি শুরু করেন তারা। কর্মসূচিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, চাঁদপুর, রাজশাহী, শরীয়তপুরসহ বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটের সংগঠনটির প্রায় ৫ শতাধিক নেতাকর্মী যোগ দেন।
এর আগে, সকাল ১০টার দিকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ করে কোটা পুনর্বহালের দাবি জানান তারা। সংসদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সোলেমান মিয়ার সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব শফিকুল ইসলাম বাবু, ভাইস চেয়ারম্যান সজীব সরকার, ইয়াসিন আকন্দ, তসলিমা রেজা, যুগ্ম মহাসচিব ফারুক খান, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হুদা, তিতুমীরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
তাদের অন্য দাবিগুলো হলো—সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সুরক্ষা আইন পাশ করে মর্যাদা নির্ধারণ করা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচনে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা ও অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের একজন প্রতিনিধিকে ভোটার করাসহ ১৯৭২ সালের সংজ্ঞা অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করা, মুজিব কোটের পবিত্রতা রক্ষায় সিনেমা, সিরিয়াল নাটকে মন্দ চরিত্রের মুজিব কোট পরা নিষিদ্ধ করাসহ মন্দ লোকদের মুজিব কোট পরার সুযোগ বন্ধ করার জন্য আইন পাশ করা, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের পরিত্যক্ত সম্পত্তি দখলমুক্ত করে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর হামলা নির্যাতন ও জমি দখলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং দুর্নীতি, মাদক, ধর্ষণের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখাসহ কঠোর আইন প্রণয়ন করাসহ হাসপাতাল, সরকারি অফিস, বিমানবন্দরসহ সব জায়গায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া।
