‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন আমার কৃষক, আমার শ্রমিক দুর্নীতি করে না। দুর্নীতি করে কিছু শিক্ষিত দুর্নীতিবাজ। ৫০ বছর আগে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া এই ভাষণ আজ অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাচ্ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর এই উপলব্ধি তার নেতৃত্বের দূরদর্শিতার প্রমাণ মেলে’—জালিয়াতি করে স্বর্ণ আত্মসাতের মামলার দুই আসামির জামিন শুনানির এক পর্যায়ে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে মামলার দুই আসামি সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ ওরফে মহি ও ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (স্বর্ণ বন্ধকি ঋণ বিভাগ) মো. আশফাকুজ্জামানকে আগাম জামিন না দিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদসহ ৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সমবায় ব্যাংকে জমা হওয়া স্বর্ণ প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অসত্ অভিপ্রায়ে ষড়যন্ত্র করে আত্মসাত্ করেন। ১১ কোটি ৩৯ লাখ ৮৮ হাজার ৬৮৬ টাকা মূল্যের স্বর্ণ আত্মসাত্ করা হয়। ইতিমধ্যে এই মামলায় পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করেছে দুদক।
গতকাল এই মামলায় হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান মহিউদ্দিন ও আশফাকুজ্জামান। শুনানির এক পর্যায়ে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর ৪২টি ভাষণের অডিও রেকর্ড শুনেছি। যেগুলোর মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর ভাষণ রয়েছে। তেমনি একটি ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘শিক্ষিতদের কাছে আমার একটা প্রশ্ন, আমি যে এই দুর্নীতির কথা বললাম, আমার কৃষক দুর্নীতিবাজ? না। আমার শ্রমিক? না। তাহলে ঘুষ খায় কারা? এই আমরা, যারা শতকরা পাঁচ জন শিক্ষিত। এই আমাদের মধ্যেই ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ।’ এ পর্যায়ে আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, বঙ্গবন্ধুর এসব ভাষণ পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার সময় এসেছে। এরপরই শুনানি শেষে হাইকোর্ট দুই আসামিকে চার সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। এ সময় আসামিপক্ষে মোতাহার হোসেন সাজু ও আকমল হোসেন শুনানি করেন।
