দীর্ঘদিন ধরে সংগীত জগত্ থেকে দূরে আছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গানের সংগীত পরিচালক আরমান খান। কর্পোরেট জীবনে ব্যস্ত থাকা গুণী এই সংগীত পরিচালক অনেকদিন পর নিজেস্ব ঘরানার বাইরে এসে গানে কণ্ঠ দিলেন। হটাত্ গানে কণ্ঠ দেওয়া ও সংগীত থেকে নিজেকে আড়াল করাসহ নানা বিষয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
দীর্ঘদিন পর সংগীত জগতে দেখা দিলেন। সেটাও আবার নিজেস্ব পরিচয়ের বাইরে। এ বিষয়ে জানতে চাচ্ছি—
আমি প্রায় ৮ বছর গানের বাইরে আছি, তবু এতদিন পর হটাত্ ইচ্ছে করলো একটি গান করার। তাছাড়া আমি তো আগে নিজে গান গাইনি, তাই মনে হলো একটা গান গাই। বলতে পারেন শখের বসে গাইলাম। হিট হওয়ার জন্য নয়।
‘বন্ধু’ শিরোনামের এই গানটি লেখা ও গাওয়ার বিশেষ কোনো কারণ আছে কী?
আমাদের ‘আমরা বন্ধু ৯২-৯৩’ নামের একটি সংগঠন আছে। তারা একটি গান তৈরি করে দিতে বললেন আমাকে। তো একটি ‘বন্ধু’ শিরোনামের এই গানটি করলাম। পরে দেখি এটা প্রেমের গান হয়ে গেছে। তাই জি-সিরিজের সঙ্গে কথা বলে তাদের দিয়ে দিলাম। গানটি আমি আশির দশকের পপ ঘরানায় গেয়েছি। আগে আমি এ ধরনের গান করিনি। আর পরে সংগঠনকে ‘বন্ধু’ শিরোনামে আরো একটি গান তৈরি করে দিয়েছি। যদিও সেটা এখনো অপ্রকাশিত।
তাহলে কী আবারো দর্শক-শ্রোতারা আপনাকে নিয়মিত পাচ্ছে?
না, আগের মতো আর নিয়মিত কাজ করার কোনো ইচ্ছে নেই। কর্পোরেট লাইভে এত বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছি যে, সেই আগের জীবন বা সময় কোনোটাই নেই। তবে হ্যাঁ, শখের বসে যদি মনে হয় তো মাঝে মাঝে দু-একটা গান করতে পারি। সেই গানের ভিউ কত হলো বা জনপ্রিয়তা পেল কি-না সেটা ভাবতে চাই না। যদিও আমার মা চলে যাওয়ার সময় গান করতে বলেছেন। এছাড়া আমার স্ত্রীও আগের মতো এখনো গান করার অনুপ্রেরণা জোগায়। তবু তেমন করে ফিরতে পারবো না বা আমি নিজেও ফিরতে চাই না।
এক সময়ের জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক হটাত্ আড়াল হলেন। কেন এই অভিমান?
মিউজিক ছাড়ার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। প্রথমত, মিউজিক করতে করতে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। ২০০২ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ২৪টি অ্যালবাম করেছি। তখন আমার মনে হলো অনেক বেশি অ্যালবাম করেছি। তাছাড়া অভিমান তো ছিলই। অনেক অভিমানে সংগীত ছেড়েছি। সেই সময় যারা গান করতেন তাদেরই মানুষ চিনতেন। আমরা আড়ালেই পড়ে থাকতাম। আর রেভিনিউয়ের ক্ষেত্রেও আমরা অবমূল্যায়িত ছিলাম তখন। মনে হতো আর একটু যদি মানুষ চিনতো, আর একটু রেভিনিউ যদি আসতো। কিন্তু ফলাফল আমাদের দিকে আসতো না!
আপনার সংগীতায়োজনে অসংখ্য গান এখনো শ্রোতাদের মুখে মুখে ঘোরে। এমন কালজয়ী গানগুলো তৈরিতে কারো অনুপ্রেরণা বা প্রভাব কাজ করেছে কী?
যেহেতু প্রফেশনাল ছিলাম তাই সবসময় চেষ্টা করতাম মার্কেটে অবস্থানটা ভালো রাখতে হবে। বিপ্লব ভাই, মমতাজ আপা, হাসান ভাই বা অন্যান্যদের যখন কাজ করাম তখন একটা প্রেষণা বা ডেডিকেশন নিয়ে কাজ করতাম। সব গান তো আর হিট হয় না। হয়তো ৫০টা গান করলাম ১ বা ২টা হিট হলো। আসলে ডেডিকেশন নিয়ে কাজ করতাম বলে আল্লাহ মুখ তুলে চেয়েছিলেন।
কোন কাজটিকে জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ বলে মনে করেন?
হাসান ভাইয়ের ‘তিন সত্যি’ ও শুভ্রদেবের ‘দিও না পরাণে যাতনা’ অ্যালবাম দুটি।
