চিরনিদ্রায় শায়িত সৈয়দ আবুল মকসুদ

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৩১

কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ও জাতীয় প্রেসক্লাবে দুই দফা শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তৃতীয় জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাংবাদিক, কলামিস্ট ও বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আবুল মকসুদ। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ধানমন্ডি ৩২ এর তাকওয়া মসজিদে প্রথম ও গতকাল দুুপুর আড়াইটায় জাতীয় প্রেসক্লাবে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মারা যান সৈয়দ আবুল মকসুদ।

দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবে আনা হয় সৈয়দ আবুল মকসুদের মরদেহ। সেখানে দ্বিতীয় জানাজায় অংশ নেন তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষিরা। এসময় সৈয়দ আবুল মকসুদের মরদেহে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুল আলম, আশরাফ আলী, কোষাধ্যক্ষ শাহেদ চৌধুরী প্রমুখ। এসময় আরো শ্রদ্ধা জানায় বিএফইউজে, ডিইউজে, বাসস, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, পিআইবি, সাব-এডিটরস কাউন্সিলের নেতারা। জানাজার আগে আবুল        মকসুদের ছেলে নাসিফ মাকসুদ বলেন, ‘বাবা এই দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন। তার জন্য দোয়া করবেন।’ শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘উদার ও সাদামনের মানুষ ছিলেন সৈয়দ আবুল মকসুদ। তিনি একজন মানবিক ও নিরপেক্ষ মানুষ ছিলেন। নীতি ও আদর্শে সারাজীবন অবিচল ছিলেন।’

বিকাল ৪টার দিকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে নেওয়া হয় সৈয়দ আবুল মকসুদের মরদেহ। সেখানে আওয়ামী লীগের পক্ষে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক। এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা বিপ্লব বড়ুয়া, অসীম কুমার উকিল প্রমুখ। এসময় আরো শ্রদ্ধা জানায়, বাংলা একাডেমি, বাম গণতান্ত্রিক জোট, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাসদ, জাসদ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব ইউনিয়ন, ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন, ভাসানী অনুসারী পরিষদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, আদিবাসী ফোরামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে সাংবাদিকতা করেছেন সৈয়দ আবুল মকসুদ। তার বস্তুনিষ্ঠ কলামগুলো বর্তমান রাজনীতিতে খুবই প্রভাব বিস্তার করত। তার লেখাগুলো আমাদের রাজনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

শহিদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধার পর মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে। সেখানে তৃতীয় ও শেষ জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।