সাত কলেজের পরীক্ষা চালু রাখার সিদ্ধান্ত

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৪০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর সাত কলেজের পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গতকাল বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক জরুরি সভার পর এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা গ্রহণ করা হলেও ক্যাম্পাস ও হলগুলো খোলা হবে না—এমন শর্তে পরীক্ষা গ্রহণ করার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এর আগে পরীক্ষার দাবিতে দিনভর রাজধানীর নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের টানা অবরোধের কারণে পুরো রাজধানী জুড়েই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। বিকালে পরীক্ষা গ্রহণ করার সিদ্ধান্তের কথা জানানোর পর থেকে শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে উঠে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে থাকে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের ডিসি সাজ্জাদুর রহমান বলেন, নীলক্ষেত মোড়টি রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কের একটি। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন                 করার কারণে রাজধানী জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। জনদুর্ভোগও প্রকট হয়ে ওঠে।

এদিকে সাত কলেজের প্রধান সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের চলমান পরীক্ষাগুলো অব্যাহত থাকবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে এক জরুরি সভায় স্থগিত পরীক্ষা চলমান রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। পরে শিক্ষামন্ত্রী এক ভিডিও বার্তায়ও সাত কলেজের পরীক্ষা চলমান রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানান। 

রুটিন প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়

মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার পরপরই কলেজগুলোর তৃতীয় বর্ষ ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাহলুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত আলাদা দুটি বিজ্ঞপ্তিতে এ রুটিন প্রকাশ করা হয়। তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষাগুলো ২৮ ফেব্রুয়ারি, ৩, ৬, ৯, ১৩ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে স্নাতক চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষাগুলো ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২, ৪ ও ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষাগুলো প্রতিদিন সকাল ৯টায় পরীক্ষা আরম্ভ হবে।

পরীক্ষা স্থগিত থাকবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সব পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো মশিউর রহমান বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজগুলোর চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়েছে। এমন কারণ দেখিয়ে তাদের পরীক্ষাগুলো নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অতীতের সেশনজট কমিয়ে আনার জন্য ক্র্যাশ প্রোগ্রাম আয়োজন করে সাফল্য পেয়েছে। ঐ অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। তাই শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোন কারণ নেই।

তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চূড়ান্ত পরীক্ষা চলছিল। এই বর্ষের লিখিত সব পরীক্ষা শেষ হয়েছে। আগামী মার্চ থেকে ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলমান ছিল। চলমান ছিল মাস্টার্স চূড়ান্ত পরীক্ষাও। এছাড়া পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত সূচি ছিল ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষ চূড়ান্ত এবং মাস্টার্স প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। এছাড়া বিভিন্ন প্রফেশনাল পরীক্ষাও চলমান ছিল।

শিক্ষার্থীদের দিনভর বিক্ষোভ

মঙ্গলবার এক জরুরি সভায় সাত কলেজের চলমান সব পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়ার খবর শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে রাতেই নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর গতকাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে আবারও নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘পরীক্ষা নিয়ে তালবাহানা চলবে না চলবে না’, ‘এক দফা এক দাবি পরীক্ষা নিতে হবে’, ‘নিতে হবে, নিতে হবে চলমান পরীক্ষা নিতে হবে’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। সকাল ৯টায় আন্দোলন শুরু হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের সংখ্যা অল্পসংখ্যক থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। একে একে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে আসতে থাকে নীলক্ষেত মোড়ে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ইসমাইল সম্রাট বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক আমাদের পরীক্ষা চলছিল। সকাল ৯টায় আমাদের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। আমরাও প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাত্ পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণায় আমরা বিপাকে পড়ে গিয়েছি। আমাদের অনেকেই পরীক্ষার চলবে এমন ঘোষণায় বাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরেছি। বাসা ভাড়া নেওয়া, ফরম ফিলআপ সব মিলিয়ে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ধরনের সিদ্ধান্তে আমরা হতাশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

বিকাল পৌনে ৪টার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার এবং পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা এলে সড়কে থাকা শিক্ষার্থীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। আনন্দ প্রকাশ করে স্লোগান দিতে দিতে সড়ক থেকে উঠে গেলে বিকাল ৪টার পর থেকে সড়ক আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

পুলিশকে ফুল দিল আন্দোলনকারীরা

বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ শিক্ষার্থীদের তুলে দিতে প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। একপর্যায়ে জলকামান নিয়ে এগিয়ে যায় পুলিশ। এ সময় শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত না হয়ে পুলিশকে ঘিরে ধরে এবং উপস্থিত প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে একটি করে লাল গোলাপ দেয়। এ সময় পুলিশও ফুলের শুভেচ্ছা গ্রহণ করে থেমে যায়।