জাবিতে হল ছেড়েছেন শিক্ষার্থীরা, ঝুলছে তালা

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:৩২

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয় গেরুয়াবাসীর হামলার পর তালা ভেঙে হলে প্রবেশ করা শিক্ষার্থীরা হল ছেড়ে দিয়েছেন। পরে সবগুলো হলে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসন। গতকাল বুধবার বেলা ১২টায় সরেজমিন গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি হলে তালা ঝুলতে দেখা যায়। এদিকে হল ছেড়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গেরুয়া, ইসলামনগর, আমবাগান ও কলাবাগান এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। ফলে তারা নিরাপত্তাহীনতায় দিন পার করছে বলে জানিয়েছে একাধিক শিক্ষার্থী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাকরির পড়া ও টিউশনির জন্য প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে। তবে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়দের হামলার পরে নিরাপত্তার জন্য অধিকাংশ শিক্ষার্থী হলে অবস্থান নেয়। কিন্তু সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশে শিক্ষার্থীরা হল ছেড়েছেন। ফলে শিক্ষার্থীরা ফের বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গেরুয়াসহ স্থানীয় এলাকায় ভাড়া বাসা ও মেসগুলোতে অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর এলাকাবাসীর হামলার পর গেরুয়ার যে বাসায় থাকতাম সেটি ছেড়ে হলে এসে উঠেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারবার হলে এসে হল ছাড়ার নির্দেশ দিলে নিরুপায় হয়ে আবার গেরুয়ায় ফিরেছি। টিউশনির জন্য বাসায়ও যেতে পারছি না। এদিকে গেরুয়ায় প্রতিদিন আতঙ্কে দিনপার করছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোতাহার হোসেন বলেন, সব হলের প্রাধ্যক্ষ জানিয়েছেন, হলগুলোতে কোনো শিক্ষার্থী নেই। তাই সব হলের ফটকে তালা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে হল ছাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আন্দোলনের সমন্বয়ক সিরাজুল হক বলেন, পারিবারিক কাজে ব্যস্ত হওয়ায় আন্দোলনকারী অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ নেই। তাই এ বিষয়ে আমি কিছুই বলতে চাচ্ছি না।

অন্যদিকে হল খোলার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দুইভাবে বিভক্ত হয়েছে বলেও গুঞ্জন চলছে। গত মঙ্গলবার তারা কর্মসূচির ডাক দিলেও তাতে সাড়ে দেয়নি সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে জানতে আন্দোলনকারী একাধিক শিক্ষার্থীকে ফোন দিলেও রিসিভ করেননি তারা।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, আমরা পুলিশের সঙ্গে প্রতিনিয়ত কথা বলছি। পুলিশ গেরুয়াসহ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রেখেছে। আশা করি আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না।