আন্দোলনের মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই দাবিতে এবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে নেমেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা এ সময় সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
এদিকে, পুলিশের বাধার মুখে রাজধানীর শাহবাগের আন্দোলন আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত স্থগিত করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এরইমধ্যে গতকাল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঈদের পর ২৪ মে থেকে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষার্থীরা।
রাজধানীর শাহবাগে গতকাল সকাল ১০টায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর শাহবাগ মোড় অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশি বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়। পরে সেখান থেকে ১০ শিক্ষার্থীকে আটক করে শাহবাগ থানা পুলিশ। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে আরো ১০ জনকে আটক করেছে বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা। আটককৃতদের পরে শাহবাগ থানা থেকে ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। আন্দোলনকারীরা জানান, এদের মধ্যে ১৩ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে রাজধানীর আজিমপুর এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। তারা সকালে নিউ মার্কেট-আজিমপুর সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের সরিয়ে দেয়।
কয়েক জন শিক্ষার্থী বলেন, পরীক্ষার রুটিন দিয়ে দেওয়ায় তারা বাড়ি থেকে ঢাকা চলে আসেন। এখন ঢাকায় এসে শোনেন পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। অনেকেরই বাসা ভাড়া দিয়ে ঢাকায় অবস্থানের মতো আর্থিক সংগতিও নেই।
আগামী রবিবার পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করেছে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিক্ষার্থীরা। এরপর দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা শিক্ষার্থীদের।
কলেজের অধ্যক্ষ ইসমাত রুমিনা বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে চলমান পরীক্ষাগুলো গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু আমাদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। নির্দেশনা অনুযায়ী এসব পরীক্ষা গ্রহণের সুযোগ আমাদের নিকট নেই।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, কলেজের অধ্যক্ষ বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। তিনি ডিন মহোদয়ের মাধ্যমে আমাকে লিখিত পাঠাবেন। আমরা এরপর বিষয়গুলো বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার সিদ্ধান্ত
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত সব পর্যায়ের পরীক্ষা আগামী ২৪ মে থেকে নেওয়া শুরু হবে। এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালের ডিগ্রি পাশ ও সার্টিফিকেট কোর্সের দ্বিতীয়বর্ষের স্থগিত পরীক্ষা এবং ২০১৮ সালের মাস্টার্স শেষ পর্বের পরীক্ষাসহ অন্যান্য প্রফেশনাল কোর্সের স্থগিত পরীক্ষা আগামী ২৪ মে থেকে শুরু হবে। এছাড়া ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষে ভর্তির কার্যক্রম আগামী ৮ জুন থেকে শুরু হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত ঐ রুটিন প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষার্থীরা ।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী সজল বলেন, আমাদের আগে যে রুটিন ছিল সে অনুযায়ী পরীক্ষা নিতে হবে। পরীক্ষার যে তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে তাতে আমাদের প্রতি বৈষম্য করা হয়েছে। আমাদের প্রায় তিন মাসের মতো পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে আমাদের অনেক সময় নষ্ট হবে। এর খেসারত দিতে হবে আমাদেরই।
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, পরীক্ষার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। গতকাল নগরীর জামালখান এলাকায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় শিক্ষার্থীরা অবরোধ করেন। এ সময় জামালখানসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয়।
নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, গতকাল নেত্রকোনায় কিছু শিক্ষার্থী শহরে মিছিল বের করে। তখন পুলিশ লাঠিচার্জ করে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় সাংবাদিকসহ সাত শিক্ষার্থী আহত হন।
সিলেট অফিস জানায়, নগরীর চৌহাট্টা পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুপুরের দিকে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। তারা চৌহাট্টা পয়েন্ট অবরোধ করেন।
বরিশাল অফিস জানায়, বরিশালে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সরকারি ব্রজমোহন কলেজের (বিএম) শিক্ষার্থীরা। এ সময় কলেজের সামনের সড়কে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ঐ সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও শিক্ষার্থীদের সড়ক থেকে সরাতে পারেনি। দুপুর সাড়ে ১২টার দি?কে কলেজের অধ?্যক্ষ প্রফেসর ড. গোলাম কিবরিয়া নানা আশ্বাস দিলেও পরীক্ষার নতুন সময়সূচি ঘোষণা না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন শিক্ষার্থীরা।
মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, মাদারীপুর সরকারি কলেজ সংলগ্ন প্রধান সড়কে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন তারা।
চবি সংবাদদাতা জানান, বিভিন্ন বিভাগের চলমান পরীক্ষার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে দিনভর আন্দোলন করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীরা। গতকাল দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার চত্বরে মানববন্ধন শুরু হয়। পরে বিক্ষোভসহকারে প্রশাসনিক ভবনের সামনে মিলিত হন তারা। সেখান থেকে দুপুর ২টার দিকে প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা।
