মনপুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯১ পদের মধ্যে ৫৫টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া বিদ্যুত্ ও যন্ত্রপাতির অভাবে চিকিত্সাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক জন ডাক্তার দিয়ে চলছে স্বাস্থ্য সেবা। প্যাথলজিক্যাল যন্ত্রপাতি, বিদ্যুত্ সমস্যা ও জনবলের অভাবসহ নানা সমস্যায় চিকিত্সা ব্যাহত হচ্ছে। ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করে উদ্বোধন করা হলেও সে অনুযায়ী মানোন্নয়ন করা হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডাক্তাররা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া রোগী দেখছেন। ফলে প্রকৃত চিকিত্সা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। জরুরি বিভাগে রোগীকে এসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
স্কুলশিক্ষক মো. হুমায়ুন ও কুলছুম বেগম, হাজির হাট বাজার ব্যবসায়ী বায়েজিদ কামাল বলেন, ‘ডাক্তার থাকলেও সঠিক রোগ নির্ণয় করার কোনো প্যাথলজিক্যাল যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা না থাকায় প্রকৃত চিকিত্সাসেবা পাচ্ছেন না রোগীরা।’ ভুক্তভোগী মো. জসিম হাওলাদার বলেন, ‘ডাক্তার না থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সা সেবার মান খুব খারাপ। এখন সেখানে গিয়ে অনেক ক্ষণ বসে থাকতে হয়। মুমূর্ষু রোগীদের চিকিত্সাসেবা দেওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই এই হাসপাতালে।’ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সাধীন শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়া রোগী মো. গোলাম হোসেন খন্দকার বলেন, ‘আমি শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতালে দুই দিন ভর্তি ছিলাম। রাত ১টার পর বিদ্যুত্ চলে যায়। বিদ্যুত্ না থাকায় আমাকে ঠিকমতো নেব্যুলাইজার মেশিন দিয়ে গ্যাস দিতে পারেনি। দিনেও বিদ্যুত্ থাকে না।’
মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. রাফিদুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে প্রকৃত সেবা দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিত্সা সেবা দিতে পারলে আরো ভালো হতো। চিকিত্সা সেবা দেওয়ার জন্য চরফ্যাশন সদর হাসপাতাল থেকে দুজন ডাক্তারকে মনপুরায় সংযুক্তি করা হয়েছে।’ এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডাক্তার রেজওয়ানুর আলম বলেন, ‘এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯১ পদের মধ্যে ৫৫টি পদ শূন্য রয়েছে। এখানে জনবল ও প্যাথলজিক্যাল যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে সত্যি। আমাদের প্রধান সমস্যা বিদ্যুত্। দিনের বেলায় কোনো বিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিত্সা সেবা দিতে পারছি না। বিদ্যুতের সমস্যা সমাধান এবং ডাক্তার, নার্স ও জনবল সংকট সমাধান করতে পারলেই আমরা ভালো চিকিত্সা দিতে পারব।’
