কারাগারে মারা গেলেন লেখক মোশতাক

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:৪৪

রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার রাষ্ট্রচিন্তার লেখক মুসতাক আহমেদ গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে মারা গেছেন। গত বছরের ৬ মে রমনা থানায় র্যাবের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় লালমাটিয়ার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর।

কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারের জেলার দেব দুলাল কর্মকার বলেন, সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের দিকে মুসতাক আহমেদ কারাগারে মাথা ঘুরে পড়ে যান। কারারক্ষীরা তাকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে করে গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিত্সকেরা। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিত্সক ডা. মোহাম্মদ শরীফ জানান, কাশিমপুর কারাগার থেকে ঐ বন্দিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। ময়নাতদন্ত শেষে কারণ জানা সম্ভব হবে। মুসতাক আহমেদ লালমাটিয়ায় স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতেন। তিনি বাবা-মায়ের একমাত্র পুত্রসন্তান। মুস্তাকের স্ত্রী লিপা আক্তার সম্প্রতি মানসিক রোগে আক্রান্ত। বাণিজ্যিকভাবে দেশে কুমির চাষের অন্যতম প্রবক্তাও ছিলেন মুসতাক। আজ শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে মুসতাক আহমেদের মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

গত বছরের ৪ মে থেকে ৬ মে ধারাবাহিকভাবে রাজধানীর কাকরাইল, লালমাটিয়া, বাড্ডা ও বনানী এলাকা থেকে র্যাবের হাতে আটক চার জন হলেন কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, মুশতাক আহমেদ, দিদারুল ইসলাম ও মিনহাজ মান্নান। পরে রমনা থানায় র্যাব বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করে। ঐ মামলায় এই চার জনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। বাকিরা হলেন প্রবাসী সাংবাদিক তাসনিম খলিল ও সাহেদ আলম, সায়ের জুলকারনাইন, আশিক ইমরান, ফিলিপ শুমাখার, স্বপন ওয়াহিদ ও ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীন।

র্যাবের দায়ের করা মামলায় বলা হয়, কার্টুনিস্ট কিশোর তার ‘আমি কিশোর’ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেশের করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনামূলক কার্টুন-পোস্টার পোস্ট করতেন। মুসতাক তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কিশোরের সেইসব পোস্টের কয়েকটি শেয়ার করেন। এছাড়া অন্য ১১ জনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে জাতির জনক, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, মহামারি করোনা ভাইরাস সম্পর্কে গুজব সৃষ্টি, রাষ্ট্র ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, মুসতাক আহমেদসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে ‘আই অ্যাম বাংলাদেশি’ নামের একটি  ফেসবুক পেজ থেকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী পোস্ট, মহামারি করোনা, সরকারদলীয় বিভিন্ন নেতার কার্টুন দিয়ে গুজব ছড়িয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির’ অভিযোগ আনা হয়।

গত সেপ্টেম্বরে এই মামলায় গ্রেপ্তার মিনহাজ মান্নান ও দিদারুল ভূঁইয়া জামিনে মুক্তি পান। কার্টুনিস্ট কিশোর ও লেখক মুসতাকের জামিন হয়নি। ছয় বার মুসতাকের জামিন আবেদন নাকচ হয়। কারাগারে থাকা কার্টুনিস্ট কিশোরও অসুস্থ বলে জানিয়েছেন তার বড় ভাই আহসান কবীর। গত ১১ জানুয়ারি রমনা থানার পুলিশ কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, লেখক মুসতাক আহমেদ ও রাষ্ট্রচিন্তার কর্মী দিদারুল ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়।