মান্দায় মাটি বহনে বেপরোয়া ট্রাক্টর

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:২৭

মান্দা (নওগাঁ) সংবাদদাতা

মান্দা উপজেলায় একদিকে চলছে মাটি কেটে পুকুর খনন। অন্যদিকে এই মাটি বহনে ব্যবহূত ট্রাক্টরগুলো বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে। ফলে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ ধুলায় স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। দাপিয়ে বেড়ানো অবৈধ প্রায় ৫০০ ট্রাক্টরের নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। উপজেলা সদর থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা পর্যন্ত এ ট্রাক্টরের দৌরাত্মে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা। করোনা ভাইরাসের কারণে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও সকাল বেলায় পাইভেট পড়তে যাতায়াত করা ছাত্র/ছাত্রীরা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

কুসুম্বা ৮ নম্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নফেল উদ্দিন বলেন, ‘টাক্টরের অবাধ যাতায়াতের কারণে রাস্তাগুলো নষ্ট হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। তাছাড়া ট্রাক্টরের চালক ও হেলপারদের নেই গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ।’ ১১ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম মাস্টার বলেন, ‘মাটি পরিবহনে ব্যবহূত ট্রাক্টরগুলো এলাকায় বেপরোয়াভাবে চলছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে। রাস্তা নষ্ট হয়ে যাওয়াসহ ধুলায় মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে।’

মান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মনোরঞ্জন মন্ডল বলেন, ‘সড়কে চলাচলকারীদের ধুলার কারণে সর্দি, কাশি, হাঁপানিসহ নানাবিধ রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।’ দেখা গেছে, কৃষি কাজের জন্য আমদানিকৃত ইঞ্জিনের সঙ্গে ট্রলি যোগ করে তৈরি করা হয় এসব অবৈধ ট্রাক্টর। ট্রাক্টরগুলো ইট, বালু, মাটি ও অন্যান্য মালামাল পরিবহনে ব্যবহার হয়। মাটি পরিবহনের সুবিধায় অনেক সময় রাস্তা কেটে চরম ক্ষতি করা হচ্ছে। এছাড়া, কৃষি জমির ওপরের মাটি কেটে নেওয়ার কারণে উর্বরতা হারানোর ফলে ফসল উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। জানা যায়, উপজেলায় ২০১৯ সাল থেকে ট্রাক্টর চলাচল বন্ধ থাকলেও এর চলাচল অব্যাহত রয়েছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইমরুল হোসেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, ‘বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে অবগত হয়েছি। এসব পুকুর খনন ও অবৈধ ট্রাক্টরের বিরুদ্ধে শিগিগর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’