প্রিমিয়ামের কমিশন বন্ধের উদ্যোগ

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:৪৯

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিল্পকারখানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিমার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আমাদের দেশে বিমার প্রচলন দীর্ঘদিন ধরে। বিদেশ থেকে কোনো পণ্য আমদানি করতে গেলে বিমা করতে হয়। অপর দিকে শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠা করতে গেলে বিমা করতে হয়। বিমার গুরুত্বের কারণে দেশে সরকারি বিমা প্রতিষ্ঠান সাধারণ বিমার পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় ৪৬টি সাধারণ বিমা কোম্পানি রয়েছে। দেশের সীমিত ব্যবসা-বাণিজ্যের মধ্যে এসব বেসরকারি সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলো বিমা ব্যবসা নিয়ে নোংরা প্রতিযোগিতা করত। বিমা ব্যবসায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আইডিআরএ (বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ) বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে আইডিআরএর গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হতে শুরু হয়েছে। বেসরকারি সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলোতে অনেকটা শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। বেসরকারি সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলোতে বিমা প্রিমিয়ামের ওপর নির্ধারিত কমিশন না দিয়ে মনগড়া কমিশন গ্রাহকদের প্রদান করত। এ নিয়ে বিমা ব্যবসায় এক নোংরা প্রতিযোগিতা চলত। আইডিআরএ এই নোংরা প্রতিযোগিতা বন্ধের লক্ষ্যে বিমা প্রিমিয়ামের ওপর কমিশন প্রদান বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে। আইডিআরএ ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে সার্কুলার জারি করেছে। সার্কুলার নং ননলাইফ ৮৪/২০২১। সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে ননলাইফ বিমা খাতে ব্যবসা অর্জন বা সংগ্রহের বিপরীতে ১৫ শতাংশ বিমা এজেন্ট কমিশন প্রদান সংক্রান্ত সার্কুলার নং ননলাইফ ৩২/২০১২ তারিখ ১ এপ্রিল ২০১২ এবং ননলাইফের কমিশনের হার সংক্রান্ত জারিকৃত অন্যান্য নির্দেশাবলী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হলো। এই সার্কুলার ইতিমধ্যে প্রত্যেক বিমা কোম্পানিসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে পৌঁছে গেছে। এই আইন চালু হলে বিমা কোম্পানিগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। বিমা প্রিমিয়ামের ওপর গ্রাহককে আর কোনো কমিশন দিতে হবে না। আইডিআরএর এই উদ্যোগ যদি সফল হয় তবে বিমা ব্যবসার মান অনেক উন্নত হবে। গ্রাহকরা ভালো সেবা পাবেন। কিন্তু এখন কথা হলো বিমা প্রিমিয়ামের ওপর কমিশন প্রদান বন্ধের ব্যাপারে যে আইন করা হয়েছে, তা কতটুকু বাস্তবায়িত হবে? কারণ আমাদের দেশে অনেক কিছুর জন্য আইন করা হয়। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয় না। এখানেও আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, আইডিআরএর আইন বিমা কোম্পানিগুলো কতটুকু মানবে। কারণ, অতীতে দেখা গেছে বিমা প্রিমিয়ামের ওপর নির্ধারিত কমিশন প্রদান কেউ মানেনি। কিছু কিছু বিমা কোম্পানি ছাড়া অধিকাংশ বিমা কোম্পানি বিমা প্রিমিয়ামের ওপর আইডিআরএর নির্ধারিত কমিশন থেকে অনেক বেশি কমিশন প্রদান করত। এতে করে ভালো ভালো বিমা কোম্পানিগুলো নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারত না। অধিক পরিমাণে কমিশন কীভাবে প্রদান করা হতো তা শুধু সেসব বিমা কোম্পানিগুলো জানত। অধিক পরিমাণে কমিশন প্রদানের সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট বিমা কোম্পানিগুলো কীভাবে বেশি কমিশন দিত তা আইডিআরএ অবগত থাকলেও বিমা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। বর্তমানে আইডিআরএ কমিশন পুরোপুরি বন্ধ করে যে বিমা ব্যবসায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু শুধু উদ্যোগ নিলেই হবে না তা কঠোরভাবে পালনের ব্যবস্থা নিতে হবে। ১ মার্চ থেকে এই আইন কার্যকর হওয়ার কথা। শুধু আইন করে বসে থাকলে হবে না। আইডিআরএর উদ্যোগ সফল করতে হলে বিমা কোম্পানিগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। বিমা কমিশন বন্ধ হওয়ার কথা ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে প্রচারিত হচ্ছে এই আইন কখনো বাস্তবায়িত হবে না। কিছু কিছু বিমা কোম্পানি বিমা গ্রাহকদের আশ্বস্ত করছে যে, যেভাবেই হোক বিমা কমিশন দেওয়া হবে। বিমা কমিশন প্রদান বন্ধ করা না গেলে আইডিআরএর এত সব উদ্যোগ ভেস্তে যাবে। দেশের অর্থনীতিতে বিমা ব্যবসার বিশেষ অবদান রয়েছে। বিমা ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে হলে শুরু থেকেই এ ব্যাপারে আইডিআরএর আরো কঠোর উদ্যোগ নিতে হবে। বিমা কোম্পানিগুলোর ওপর বিশেষ নজরদারি রাখতে হবে। তবেই আইডিআরএর এই উদ্যোগ সফল হবে।

n লেখক :বিমা কর্মকর্তা