তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৯:৩১

সৈয়দ মাহবুব হাসান আমিরী

আইসিটি শিক্ষক

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

র্যাম:র্যান্ডম অ্যাক্সেস মেমোরি (ইংরেজি:Random access memory), সংক্ষেপে র্যাম (RAM) হলো এক ধরনের কম্পিউটারের উপাত্ত (ডাটা) সংরক্ষণের মাধ্যম। র্যাম থেকে যে কোনোক্রমে উপাত্ত ‘অ্যাক্সেস’ করা যায়, এ কারণেই একে র্যান্ডম অ্যাক্সেস মেমোরি বলা হয়। র্যান্ডম শব্দটি দিয়ে এখানে বোঝানো হয়েছে যে কোনো উপাত্ত (তার অবস্থানের উপরে নির্ভর না করে) ঠিক একই নির্দিষ্ট সময়ে উদ্ধার করা যায়। রক্ষণাত্মক দৃষ্টিতে, আধুনিক ডির্যামগুলো র্যান্ডম এ্যাকসেস মেমোরি নয় (যেভাবে এগুলো ডাটা রিড করতে পারে)। একই সাথে, বিভিন্ন ধরনের এসর্যাম, রম, ওটিপি এবং নর ফ্ল্যাশ ইত্যাদি র্যান্ডম এ্যাকসেস মেমোরি। র্যামকে ভোলাটাইল মেমোরি বলা হয় কারণ এতে সংরক্ষিত তথ্য বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর আর থাকে না। আরো কিছু নন-ভোলাটাইল মেমোরি (যেগুলোতে বিদ্যুত্ চলে যাওয়ার পরও তথ্য মুছে যায় না) যেগুলো রক্ষণাত্মক দৃষ্টিতে র্যাম সেগুলো হল রম, একধরনের ফ্লাশ মেমোরি যাকে নর-ফ্লাশ বলে। প্রথম র্যাম মডিউল বাজারে আসে যেটা তৈরি হয়েছিল ১৯৫১ সালে এবং ১৯৬০ দশকে এবং ১৯৭০ দশকের প্রথম দিকে বিক্রি হয়েছিল।

হার্ডডিস্ক: হার্ডডিস্ক হলো ডাটা সংরক্ষণের যন্ত্র যা তথ্য জমা এবং পরবর্তী সময়ে ব্যবহারের জন্য ব্যবহূত হয়। হার্ড ডিস্কে সমকেন্দ্রিক একাধিক চাকতি থাকে। একে প্লেটারস বলে। এগুলো চৌম্বকীয় ধাতু দিয়ে আচ্ছাদিত থাকে। প্লেটারসগুলো চৌম্বকীয় হেডস বা মাথার সাথে জোড়া দেয়া থাকে। এগুলোর সাথে আর একটি সক্রিয় একচুয়েটর আর্ম বা হাত থাকে। এই একচুয়েটর আর্ম প্লেটারগুলোর উপরিভাগ থেকে তথ্য পড়তে এবং তথ্য জমা করতে ব্যবহূত হয়। ডাটাগুলো ড্রাইভে স্থানান্তরিত হয় র্যানডম-একসেস প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে। এর মানে হলো ডাটা যখন ড্রাইভে রাখা হয় এগুলো পরপর সাজানো হয় না বরং যেকোনো খালি জায়গায় ডাটা জমা করা হয়। হার্ডডিস্ক ড্রাইভ কম্পিউটার বন্ধ করার পরও ডাটা সংরক্ষণ করে রাখে। আইবিএম সর্বপ্রথম ১৯৫৬ সালে হার্ডডিস্ক উদ্ভাবন করে এবং ১৯৬০ দশকে সাধারণ কম্পিউটারের দ্বিতীয় সংরক্ষণ মাধ্যম হিসেবে কম্পিউটারগুলোতে ব্যবহূত হতে থাকে। প্রতিনিয়ত এটির উন্নয়নের ফলে আজকের দিনের সার্ভার থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত কম্পিউটারে এর ব্যবহার লক্ষনীয়। বর্তমানে অধিকাংশ কম্পিউটারে তথ্য সংরক্ষণের স্থায়ী ব্যবস্থা হিসাবে হার্ডডিস্ক ব্যবহূত হয়।

সিডি: সিডি এর পূর্ণরূপ কমপ্যাক্ট ডিস্ক (Compact Disc) এটি ইংরেজি শব্দ। তথ্য ধারণের একটি চাকতি বিশেষ, ডিজিটাল তথ্য যেমন- লেখা , ছবি, ভিডিও, গান প্রভৃতি রাখার একটি প্রযুক্তি। গোলাকৃতির ও কয়েক মিলিমিটার পুরু চাঁচ নির্মিত এই ডিস্ক কম্পিউটারের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। আদর্শ সিডিগুলোর ব্যাস প্রায় ১২০ মি.মি. বা ৪.৭ ইঞ্চি হয়ে থাকে এবং এতে প্রায় ৭০০ মেগাবাইট তথ্য সংরক্ষণ করা যায়। এটি প্রি-রেকর্ডেড, রেকর্ডেবল এবং রিরাইটেবল তিন ধরনের হয়ে থাকে। এর থেকে তথ্য উদ্ধারের বা পড়ার জন্য একটি ড্রাইভ বা চলক প্রয়োজন হয়। কমপ্যাক্ট ডিস্ক লেজার-ডিস্ক প্রযুক্তির একটি উদ্ভাবন। ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সনি নামক একটি প্রতিষ্ঠান সর্বপ্রথম একে জনসমক্ষে নিয়ে আসে এবং ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বরে তারা একটি ‘অপটিকাল ডিজিটাল অডিও ডিস্ক’ তৈরি করেছিল যা প্রায় ১৫০ মিনিট পর্যন্ত তথ্য ধারণ করতে পারতো।